‘ইরান যুদ্ধ’ ঠেকাতে ব্যর্থ ট্রাম্পের মার্কিন সিনেট!
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
ইরানের রণক্ষেত্রে যখন মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে, তার প্রতিধ্বনি ঠিক ততটাই জোরালোভাবে আছড়ে পড়ছে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটাল হিলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযান কি নিছকই ‘আত্মরক্ষা’, নাকি কংগ্রেসের ক্ষমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নেওয়া এক স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত, এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। সম্প্রতি ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনা হলেও রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থানের কারণে তা ৪৭-৫২ ভোটে নাকচ হয়ে গেছে। এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিদেশের মাটিতে প্রেসিডেন্টের সামরিক তৎপরতা বজায় রাখতে রিপাবলিকান শিবির বর্তমানে সম্পূর্ণ একাট্টা। একইভাবে বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদেও এই প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এর ভবিষ্যৎ যে খুব একটা উজ্জ্বল নয়, তা সহজেই অনুমেয়।
মার্কিন সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেবল তাৎক্ষণিক হুমকির মুখে ‘আত্মরক্ষার’ খাতিরেই প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে আক্রমণ চালাতে পারেন; অন্যথায় যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের। সিনেট ফ্লোরে বিতর্কের সময় সিনেটর টিম কেইন কড়া ভাষায় দাবি করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি যা প্রমাণ করে যে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ‘আসন্ন হামলার’ ঝুঁকি ছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে স্থল সৈন্য নিয়োজিত রয়েছে এবং বড় ধরনের সংঘাত চলছে, তাকে কোনোভাবেই সামান্য একটি ‘আঘাত’ বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ পুনরায় শুরু করেছে। অথচ গত বছরই তিনি দাবি করেছিলেন যে ইরানি পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনার কথা বললেও ট্রাম্প পরে দাবি করেন যে ইরানই মূলত ইসরায়েলে হামলার ছক কষছিল। এই ধোঁয়াশা সত্ত্বেও রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ যুদ্ধের পক্ষ সমর্থন করে বলেন, গত ৪৭ বছরের শত্রুতা এবং নতুন করে পারমাণবিক তৎপরতাই প্রেসিডেন্টের এই কঠোর পদক্ষেপকে বৈধতা দেয়।
পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক অভিযান মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে আরও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। যদিও যুদ্ধের সঠিক সময়সীমা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, তবে ট্রাম্প আভাস দিয়েছেন এটি অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটাভুটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। ‘ডিমান্ড প্রগ্রেস’-এর মতো অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, নির্বাচনের এই বছরে ভোটাররা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন কারা একটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন।





















বাংলা নববর্ষ ঘিরে নাশকতার শঙ্কা নেই: র্যাব মহাপরিচালক