মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বায়োপসির জন্য খালেদা জিয়ার নমুনা সংগ্রহ, ফল পেতে লাগবে দু’সপ্তাহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ২১৪ কোটি টাকা ফেরত দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ফৌজদারি কার্যবিধি সময়োপযোগী করতে আইন মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠণ পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় হামলা : আরো দু’জনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না, কোকোর স্ত্রী এসেছেন ডিসেম্বরে ড্যাপ গেজেট, যৌক্তিক কারণে হতে পারে সংশোধন: তাজুল পুলিশ কনস্টবলের ৩০০০ পদে আবেদন ৩.৩৮ লাখ, প্রথম বাছাইয়ে বাদ ২.২১ লাখ লিটন দাসের জোড়া ক্যাচ মিসে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটাও হাতছাড়া টাইগারদের ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স কমার প্রভাবে ডলারের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রোহিঙ্গা শিবিরে সহিংসতার নেপথ্যে ৪ কারণ ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতি ওয়ার্ডে কমিটি গঠণের নির্দেশ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেকোনও অংশীদারের চেয়ে গভীরতর: শ্রিংলা বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ দেশের রাষ্ট্রদূতকে ‘বহিষ্কার’ তুরস্কের পীরগঞ্জে হামলা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে: র‍্যাব স্বপ্নের পায়রা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ভোজ্যতেল-মুরগির দাম আরও বেড়েছে, অস্বস্তিতে বিক্রেতারাও ভোর রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় হামলা, নিহত ৬ কারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে খুঁজে দেখতে হবে: জি এম কাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা বন্ধে প্রয়োজনে গুলি ছুড়তে হবে

এবার সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার অভিযোগ

বৃত্তান্ত ডেস্ক / ৫৫ জন দেখেছেন
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের টাকা হাতানোর আরেক ফাঁদ সমবায় সমিতির নামে গজিয়ে ওঠা লাখ লাখ নামে বেনামের দোকান। ব্যাঙের ছাতার মতো পাড়ামহল্লাসহ দেশের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বাহারি নামের অসংখ্য বহুমুখী সমবায় সমিতি। কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যাদের বেশিরভাগই আইন-কানুন বা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেনা। প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এরা প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনবহির্ভূত কার্যক্রম চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে নিরীহ মানুষের টাকা। নাম সর্বস্ব কোম্পানির এমনি একটি ‘ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ’।

যার অন্যতম হোতাদের একজন কিংশুক সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাব্বির আমেদ মাহমুদী। সম্প্রতি কিংশুক সমবায় সমিতির গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ  পাওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে  মামলাও  চলমান।এই ‘ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ’এর
বহুমুখী প্রতারণার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এ.আই.জি ও রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ বজলুর করিম, বিপিএম। অভিযোগে তিনি বলেন ,বজলুর করিম ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নামক ভুঁইফোড় সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার সহযোগীর নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন ।  নিজস্ব অর্থায়নে গড়া রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানটিও জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন এই দুই প্রতারক।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরের শালবনের ভেতরে অবস্থিত। ইয়েস মাল্টিপারপাস নামক একটি সমবায় সমিতি নাম মাত্র মূল্যে এখানে প্রায় ৮০বিঘা জায়গা ক্রয় করে। পরবর্তীতে ইয়েস গ্রুপ পত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন ও লোভনীয় অফার দেওয়ায়  এখানে অনেকেই বিনিয়োগ করেন। যারা কেউই ইয়েস গ্রুপ নামক সমবায় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত নয়।রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার গহীনে এর অবস্থান। পরবর্তীতে যারা এখানে জায়গা ক্রয় করেন তাদেরকে বিল্ডিং নির্মাণ করে দিবেন বলে ইয়েস গ্রুপ হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। যদিও উক্ত বিল্ডিং নির্মানে এতটাকা খরচ হয়নি। যাহা ইতিমধ্যে তদন্তে প্রমানিত হয়।রিসোর্টের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ ও ২০১৭ সাল হতে ওয়াটার ফ্রন্ট প্রজেক্ট এলাকার এবং কটেজ পার্ক প্রজেক্ট এলাকার বিল্ডিং করার জন্য পরিচালকগণ যে অর্থ বিনিয়োগ করেন তার হতে কনস্ট্রাকশন পরীক্ষান্তে  মোট ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমান ৯ কোটি টাকা। যাহা ২০১৪ সালে কোন অর্থলগ্নিকারী  প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করলে হতো ৯ কোটি টাকা। এবাবদ ইয়েস গ্রুপের নিকট রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট মালিকপক্ষের পাওনা মোট ১৮ কোটি টাকা।এছাড়া রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিঃ ইয়েস গ্রুপকে বিদ্যুতের জন্য প্রদান করেন ৩৯ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ এত বছরে তারা বিদ্যুতের বিষয়টি সুরাহা করতে পারেননি। এই টাকা অন্যকোন অর্থলগ্নিকারক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করলে তার পরিমান হতো প্রায় ৭৩ কোটি টাকা।মালিক পক্ষদের বোকা বানিয়ে ইয়েস গ্রুপ উক্ত রিসোর্টটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় এবং শর্তনুযায়ী প্রতি বৎসর বিল্ডিং মালিকদের লাভের প্রাপ্যতা বুঝিয়ে দেয়া হবে।কিন্তু ইয়েস গ্রুপ এখান থেকে প্রতি বৎসর কোটি টাকা কামালেও মালিক পক্ষদের দেখিয়েছেন শুধু লোকসান আর লোকসান। যদিও রিসোর্টের আয়ের রেজিষ্ট্রার অনুযায়ী এখানে কখনো লোকসান হয়নি। ইয়েস গ্রুপ তাদের সাথে প্রতারনা করে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ ইয়েস গ্রুপের ছলচাতুরামি বুঝতে পেরে নিজেরাই রিসোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৮টি বিল্ডিং এর মালিকপক্ষদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিঃ’।এতেই বাধ সাজে ইয়েস গ্রুপ। নিজেদের অংশীদারিত্ব না থাকলেও অনৈতিক ভাবে রিসোর্টটি জবর দখলের পায়তারা করছে তারা।মালিক পক্ষের  মাধ্যমে জানা যায়, আমরা রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিমিটেডের পরিচালকগন, কেউই উক্ত ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি-এর সদস্য বা সদস্যা নই। ইয়েস গ্রুপ আমাদের মত নিরপরাধ, কোমলমতি ব্যক্তিদের কাছ হতে কোটি কোটি টাকা অর্থ সংগ্রহ করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেন।অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রতি বছর অনুমোদিত ফার্ম কর্তৃক সার্টিফাইড আয়ব্যয়ের কোন হিসাব নিকাশ প্রদান না করেই বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ইচ্ছামত মনগড়া হিসাব বিবরনী প্রদর্শন করছেন, যাহা মিথ্যা ও জালিয়াত। ইয়েস গ্রুপের অভিনব প্রতারনা ও সাধারন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি আমানত সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। যাহা ইতিমধ্যে তদন্তাধীন।এই বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জেনে  জানাতে পারবো। তবে কোন সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে আমরা অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।জানা যায়, প্রতারক এ চক্র রিসোর্টে বিনোয়োগকৃত অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তরিত করে ধল্যাপাড়ের সুখ কম্যুনিটি ভিলেজ, হেমায়েতপুর প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, জমি ক্রয় ও অবকাঠামো নির্মাণ করেন- উত্তরা থ্রি ইন ওয়ান প্রজেক্ট বিনিয়োগকারীদের অর্থে ক্রয় করে, বিনিয়োগকারীদের না জানিয়ে সমস্ত অর্থ আত্মসাৎ করে।এছাড়াও রিসোর্টের বিল্ডিং সহ প্লটের প্রকৃত ব্যয়ের অনেকবেশী অর্থ প্রাপ্তির পরই এ প্রতারক চক্র তাদের সাব-কাবলা দলিল করে দেন।এ প্রতারক চক্রের কাছে হার মেনেছে বিভিন্ন ব্যাংকসহ অনেক বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও।গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের অন্তর্গত বারুইপাড়ায় অবস্থিত “রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট ” এর জমি (যার বিপরীতে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে গাজীপুর মামলা চলমান রয়েছে) বন্ধক রেখে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ ব্যংকের গুলশান শাখা থেকে ঋন সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি আবেদন করেন বলে জানা যায়। উক্ত ৮ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রি না দেয়ায় ইয়েস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর বিরুদ্ধে “বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালত গাজীপুর এর বরাবর পরিচালকগণ দেওয়ানী মকোদ্দমা নং ৪৪১/১৯ ও দেওয়ানী মকোদ্দমা নং ১১৫/২১ দায়ের করেছেন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিঃ কর্তৃপক্ষ।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইয়েস গ্রুপের চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ