শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: গণতন্ত্র মঞ্চ সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে সমাবেশে ডাকলো বিএনপি অভিষিক্ত আবরারের ঘূর্ণিতে মুলতানে ধসে পড়ল ইংল্যান্ড নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মীরা ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম ধর্মঘটে রাজধানীর গোলাপবাগে সমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু ১ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব- টিআইবি রংপুর-ঢাকা বাস চলাচল বন্ধ ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার স্যুটকেসে কাপড়-ওষুধ নিয়ে প্রস্তুত: আ স ম আবদুর রব জ্বালানি বিনিয়োগে বেইজিং-রিয়াদ সমঝোতা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে আরো হামলার অঙ্গীকার পুতিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল-আব্বাস ডিবির হেফাজতে বিশ্বমন্দার ধাক্কা বাংলাদেশে লাগবে না- প্রধানমন্ত্রী আমার বিয়ে আর হবে না: নুসরাত ফারিয়া

বিজ্ঞাপনসহ বিদেশী চ্যানেল প্রচার নিয়ে সরকার-কোয়াব মুখোমুখি, আন্দোলনের হুমকি

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : অক্টোবর ৩, ২০২১

বৃত্তান্ত প্রতিবেদক: বিজ্ঞাপনসহ বিদেশী চ্যানেল প্রচারে আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশে বিদেশী চ্যানেলগুলো সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

এ নিয়ে সরকার ও কোয়াব পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়েছে।

এ অবস্থায় সোমবারের (৪ অক্টোবর) পর কোয়াবের পক্ষ থেকে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ ধরনের আন্দোলনের কথা বলা অযৌক্তিক।

তিনি বলেন, আমরা কোনো চ্যানেল বন্ধ করিনি, বন্ধ করার জন্যও বলিনি। বাংলাদেশের আকাশ উন্মুক্ত। আমরা আইন বাস্তবায়নের কথা দুই বছর আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছি। বেশ কয়েকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে, নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বসে সিদ্ধান্ত হয়, ১ অক্টোবর থেকে আইন কার্যকর করব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ বলছে ডিজিটালাইজড না হওয়া পর্যন্ত আইন শিথিল রাখার জন্য। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পুরোটা ডিজিটালাইজড হয়নি। সেখানে আইন কার্যকর আছে। আমাদের দেশে এ ধরনের অজুহাত তোলার কোনো যুক্তি নেই।

তিনি বলেন, আগেই সময় দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলোকে বলে ক্লিনফিড পাঠাতে পারে এবং তারাও প্রস্তুতি নেয়। যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, দুই বছর সময়  অনেক। আমি দুই বছর আগে থেকেই তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। এর আগেও এই আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, ফ্রান্স টিভি, রাশান টিভি, ইউরো টিভি, এনিম্যাল প্ল্যানেটসহ ১৭টি টিভি বাংলাদেশে ক্লিনফিডে আসে। সেগুলোও তারা চালাচ্ছে না। যেটি কেবল অপারেটর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। সুতরাং কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অভিযুক্ত হবে। যেসব চ্যানেল ক্লিনফিড পাঠায় না তাদের এজেন্ট আছে। এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ও এজেন্টের। এটি কেবল অপারেটরদের দায়িত্ব নয়। কিন্তু কোনো কোনো কেবল অপারেটর এজেন্টদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে পাইরেসি করে ডাউনলিংক করে। সেটি কিন্তু তারা করতে পারে না। এটি আইনবহির্ভূত।

কোয়াবের আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, এ ধরনের আন্দোলনের কথা বলা অযৌক্তিক। যেসব চ্যানেল দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে, সংস্কৃতিকে চোখ রাঙাচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে ওকালতি করা দেশের স্বার্থ ও আইনবিরোধী। আমি আশা করব, দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হবেন না।

সরকার কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। সরকার দেশের স্বার্থ ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য, আইন বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর, বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, তারা যদি আলোচনা করতে চায় আলোচনা হতেই পারে। তারা আমাদের সহযোগী, আলোচনা হতেই পারে। তবে আলোচনার ভিত্তি হবে আইন মানা, দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ।

কেবল অপারেটররা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেবল অপারেটররা বললেও এটি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার মতো একটি বক্তব্য। তারা কি চ্যানেলগুলো দেখা না যাওয়ার পর চার্জ কমিয়ে দিয়েছে? এক টাকাও তো কমেনি। বিদেশি চ্যানেল দেখানোর জন্য এজেন্টদের যে ফি দিত সেটা এখন দিতে হবে না, টাকা সাশ্রয় হবে। সবাই বন্ধ করেনি। আকাশ ডিটিএইচসহ কেউ কেউ ওইসব চ্যানেল চালু রেখেছে। প্রথম দিকে তারা কিছু অসুবিধার কথা বলেছিল। আমি আশা করব, সেটি দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন এই পদক্ষেপ নিয়েছি, দেশের সব মিডিয়া এটিকে অভিনন্দন জানিয়েছে, মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা তারা অভিনন্দন জানিয়েছে, শিল্পীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে, দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি, সাংবাদিক ও মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বার্থে।

হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার কয়েক শ কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। এই বিনিয়োগবঞ্চিত হওয়ার কারণে মিডিয়া থেকে অনেকে ছাঁটাই হচ্ছেন। যখন এই বিনিয়োগটা দেশি মিডিয়ায় হবে, তখন মিডিয়া থেকে ছাঁটাই হওয়াটা বন্ধ হয়ে যাবে বা সেই অজুহাতে ছাঁটাই করা যাবে না। এভাবে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ