শক্তিশালী কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
শুরু থেকে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে গোলশূন্য বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে দুই মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল হজম করল লাল সবুজের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকটা সময় গোলবঞ্চিত রাখা গেল কোরিয়াকে, কিন্তু আবার দুই মিনিটে দুই গোল হজম। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারা ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি গোলকিপার মিলি আক্তারের অসাধারণ পারফরম্যান্স।
এএফসি এশিয়ান কাপে শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এদিন প্রথমার্ধে হয়েছে দুই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে হয় আরও তিনটি গোল। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের সঙ্গে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে মোট ৭ গোল হজম করলো লাল সবুজের মেয়েরা। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ।
পরপর দুই ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে উত্তর কোরিয়া। তারা সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এক খেলায় এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে চীন। আজ দুপুর ২টায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে চীনের মেয়েরা্। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে জয়ের খোঁজে তালিকার তিনে থাকা উজবেকিস্তান।
কোরিয়ার কাছে এদিন পরাজয়টা আরও বেশি হলেও হতে পারত। তবে গোলকিপার মিলি আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অসাধারণ খেলেছেন। সমীকরণ বলছে অন্তত ৬টি পরিষ্কার গোল তিনি সেভ করেছেন। এমনকি ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনেও তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যারা ৯ নম্বর দল, তাদের বিপক্ষে হার অনুমিতই ছিল। ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি ২০ বছর বয়সী গোলকিপার মিলি।
এ ছাড়া এদিন বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখ করার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি কেউ-ই। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন নিস্প্রভ। তাঁর ভুলেই ডেডলক ভাঙে উত্তর কোরিয়া। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত পাসিং ফুটবলের জবাবও ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য।
পঞ্চম মিনিটে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় মিলি আক্তারকে। বক্সে ঢুকে হান জিং হংয়ের নেওয়া গতিময় শট ক্ষীপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও পরে দেখা যায় অফসাইড ছিলেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
১১ মিনিটে আবারও উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ ঠেকান মিলি। এবারও ফরোয়ার্ড হান জিন হংয়ের নিরাশ করেছেন বাংলাদেশ গোলকিপার। মিলির নৈপূণ্য বাদ দিলে এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে উত্তর কোরিয়া জালের দেখা পায় ১৪ মিনিটের মাথায়। বক্সের ভেতর বল পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড কিম কিয়ং ইয়ং। যদিও হ্যান্ডবলের কারণে এই যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। এর আগে চীনের বিপক্ষেও শুরুতে ভিএআরের কারণে গোল হজম করেও বেঁচে গিয়েছিল লাল সবুজের মেয়েরা।
২৬ মিনিটে আরও একবার ভিএআর রিভিউয়ে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কিম সং ইয়ংয়ের কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকিয়ে দেন মিলি। কিন্তু মিলির ধরে রাখা বলে শট দিয়ে গোল করেন মিও ইয়ো ঝং। ৩১ মিনিটে আরও একবার জালের দেখা পায় কোরিয়া। এবার অফসাইডে থাকার কারণে গোল বাতিল হয় কোরিয়ার।
প্রথম আধা ঘন্টায় এদিন কোনো আক্রমণ শানাতে পারেননি ঋতুপর্ণা, মনিকারা। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণে গোলা সামলেছেন আফঈদা, নবিরনরা। বাংলাদেশের বক্সে কোরিয়ান মেয়েরা আতঙ্ক ছড়িয়েছেন পুরোটা সময়। দুই উইং দিয়ে একের পর এক ক্রস দিয়েছেন তারা। তাদের ফরোয়ার্ডরা প্রায় সময়ই থেকেছেন আনমার্ক।
৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ফিরে আসে বারে লেগে। পেনাল্টির আবেদন হলে এবারও ভিএআর যায় বাংলাদেশের পক্ষে। দুই মিনিট পর হান ঝিং হংয়ের শট বাঁদিকে ঝাপিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন মিলি, বলের নাগাল পাননি তিনি। বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে।
বিরতির আগেই তিন পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং উমেহ্লা মারমা। উঠে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র, আইরিন ও তহুরা। যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটের মাথায় মিলির দারুণ সেভ।
পরের মিনিটে পেনাল্টি পায় কোরিয়া। হান ঝিংকে বক্সে ফেলে দেন আফঈদা। পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিক নেন মিয়ং জং। দুই মিনিটের মাথায় কিম কিয়ং ইয়ংয়ের গোলে জোড়া গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় কোরিয়া। এখানেও ছিলেন ডিফেন্ডার আফঈদা, বাংলাদেশ অধিনায়ক ট্যাকলের বদলে লাফিয়ে উপরে উঠলে তাঁর পায়ের নিচ দিয়েই নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
আগের ম্যাচেও আফঈদার ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে রক্ষণ থেকে আফঈদাকে নয়, নবিরনকে তুলে বিরতির পর উন্নতি খাতুনকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। এই ম্যাচে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী উন্নতির।
৬০ মিনেটর মধ্যে পরপর দুটি সেভ করেন মিলি। খানিক পর দুই মিনিটে পরপর দুই গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৬২ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন চা উন ইয়ং। গোলকিপারের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ং।
৭০ মিনিটে মিলির অসাধারণ সেভ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম হাই ইয়ং। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৯ মার্চ, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।

























সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি; প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭