ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ মাসে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৫৫ নিহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২ ৯১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জ গত ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।আহত হয়েছেন ৭৬ জন। এর মধ্যে অধিকাংশ দুর্ঘটনায় ঘটেছে ঢাকা- খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ অংশে। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি গিয়ে মিশেছে খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার সঙ্গে। হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই যাত্রী ও পথচারী।

শুধু চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৯ জন। এ হিসাব জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। মুকসুদপুর উপজেলা খুলনা বিভাগের জেলার মোল্লাহাট উপজেলা পর্যন্ত। সড়কের এই অংশে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো বেপরোয়া গাড়ি চালানো, আবার কখনোবা গাড়ির ফিটনেস না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। আর ধান কাটা এবং রবিশষ্যের মৌসুমে রাস্তার দুধারে কৃষকেরা ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ করায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এসময় একটি গাড়ি আরেকটি গাড়ির সাইড দিতে গিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মিলটন বাজার নামক স্থানে একটি বাস প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা রয়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।

সম্প্রতি যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ২ জন কৃষক মারা গিয়েছেন। মারা গিয়েছেন দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক বাসুদেব সাহা ও তার স্ত্রী ও তার একমাত্র ছেলে। এসময় কৃষকেরা রাস্তার দু’ধারে ধান মাড়াই করছিলেন এবং ধানের অবশিষ্ট অংশ শুকচ্ছিলেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের পুরো অংশটাই জুড়ে ধান ও রবির রবিশস্যের মৌসুমেএ দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সড়ক দখল করে কৃষকেরা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করেন। দীর্ঘ মহাসড়কজুড়ে যে ধান শুকানোর কাজ চলছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে টুংগীপাড়া অংশে এখনো তা বিদ্যমান।

মহাসড়ক বা সড়কে ধান শুকানো অন্যায় জেনেও কৃষকেরা জায়গার অভাবে সড়ক-মহাসড়ক এই ধান শুকাচ্ছেন। গাড়ি চালকরা দুর্ঘটনার জন্য তাদের অতিরিক্ত গতি এবং ফিটনেস এর থেকে কৃষকদের ধান শুকানোকে বেশি দায়ী করছেন। তবে সাধারন মানুষ মনে করেন মহাসড়কে ধান শুকানো গাছের গুড়ি ফেলে রাখা সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য পুলিশ রাতদিন কাজ করে চলেছে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি না পেলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। শুধু আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়েই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয় এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা তৈরি করা।

গোপালগঞ্জ এর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সড়কে চলাচলের জন্য নিজেকে উপযোগী করে চলাচল করা উচিত। নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে চলতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সড়ক গুলো শুধু যান চলাচলের জন্য। ধান শুকানোর জন্য নয়। সড়কে গাড়ি ঘোড়া যাবে তবে একটা নির্দিষ্ট স্পিড নিয়ে যাবে।

তবে স্থানীয় জনগণ মনে করেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা ও বেড়ে যাবে বহুগুণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

৬ মাসে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৫৫ নিহত

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২

গোপালগঞ্জ গত ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।আহত হয়েছেন ৭৬ জন। এর মধ্যে অধিকাংশ দুর্ঘটনায় ঘটেছে ঢাকা- খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ অংশে। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি গিয়ে মিশেছে খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার সঙ্গে। হতাহতদের মধ্যে অধিকাংশই যাত্রী ও পথচারী।

শুধু চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৯ জন। এ হিসাব জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের।

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। মুকসুদপুর উপজেলা খুলনা বিভাগের জেলার মোল্লাহাট উপজেলা পর্যন্ত। সড়কের এই অংশে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো বেপরোয়া গাড়ি চালানো, আবার কখনোবা গাড়ির ফিটনেস না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। আর ধান কাটা এবং রবিশষ্যের মৌসুমে রাস্তার দুধারে কৃষকেরা ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ করায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এসময় একটি গাড়ি আরেকটি গাড়ির সাইড দিতে গিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মিলটন বাজার নামক স্থানে একটি বাস প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা রয়ে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।

সম্প্রতি যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ২ জন কৃষক মারা গিয়েছেন। মারা গিয়েছেন দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক বাসুদেব সাহা ও তার স্ত্রী ও তার একমাত্র ছেলে। এসময় কৃষকেরা রাস্তার দু’ধারে ধান মাড়াই করছিলেন এবং ধানের অবশিষ্ট অংশ শুকচ্ছিলেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জের পুরো অংশটাই জুড়ে ধান ও রবির রবিশস্যের মৌসুমেএ দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। সড়ক দখল করে কৃষকেরা ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করেন। দীর্ঘ মহাসড়কজুড়ে যে ধান শুকানোর কাজ চলছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে টুংগীপাড়া অংশে এখনো তা বিদ্যমান।

মহাসড়ক বা সড়কে ধান শুকানো অন্যায় জেনেও কৃষকেরা জায়গার অভাবে সড়ক-মহাসড়ক এই ধান শুকাচ্ছেন। গাড়ি চালকরা দুর্ঘটনার জন্য তাদের অতিরিক্ত গতি এবং ফিটনেস এর থেকে কৃষকদের ধান শুকানোকে বেশি দায়ী করছেন। তবে সাধারন মানুষ মনে করেন মহাসড়কে ধান শুকানো গাছের গুড়ি ফেলে রাখা সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য পুলিশ রাতদিন কাজ করে চলেছে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি না পেলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। শুধু আইন প্রয়োগের মধ্য দিয়েই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয় এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা তৈরি করা।

গোপালগঞ্জ এর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সড়কে চলাচলের জন্য নিজেকে উপযোগী করে চলাচল করা উচিত। নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে চলতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সড়ক গুলো শুধু যান চলাচলের জন্য। ধান শুকানোর জন্য নয়। সড়কে গাড়ি ঘোড়া যাবে তবে একটা নির্দিষ্ট স্পিড নিয়ে যাবে।

তবে স্থানীয় জনগণ মনে করেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা না হলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা ও বেড়ে যাবে বহুগুণ।