দুই স্পর্শেই ম্যাচ মাতালেন মেসি, গড়লেন ইতিহাস
- আপডেট সময় : ০১:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, মাঠে তার প্রভাব সময়ের হিসেবে নয় মাত্র কয়েকটি স্পর্শেই বদলে দিতে পারেন পুরো ম্যাচের গল্প। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে সেই চিরচেনা দৃশ্যই দেখা গেল, যেখানে বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
বুধবার (১০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারিয়েছে আইসল্যান্ডকে। ম্যাচের শুরু থেকে আর্জেন্টিনা কিছুটা পরীক্ষামূলক একাদশ নিয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার পার্থক্যই ফল নির্ধারণ করে দেয়। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন ভ্যালেন্টিনো বারকো, লিওনেল মেসি এবং থিয়াগো আলমাদা।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ছিল লিওনেল মেসির মাঠে নামা এবং এরপর তার স্বল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি করা প্রভাব। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯ মিনিটে জিউলিয়ানো সিমেওনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামার পর প্রথম স্পর্শেই তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরান লাউতারো মার্তিনেজকে গোলরক্ষকের মুখোমুখি করে দেন তিনি। যদিও সেই সুযোগ থেকে সরাসরি গোল হয়নি, তবে সেই আক্রমণেই বক্সে ফাউলের শিকার হয় আর্জেন্টিনা এবং পায় পেনাল্টির সুযোগ।
পরের মুহূর্তেই আসে ম্যাচের সবচেয়ে প্রত্যাশিত দৃশ্য। নিজের দ্বিতীয় স্পর্শেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে আইসল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোল শুধু ম্যাচের ব্যবধানই বাড়ায়নি, বরং ব্যক্তিগতভাবে নতুন এক ইতিহাসও লিখেছে তার নামের পাশে।
৩৮ বছর ১১ মাস ১৬ দিন বয়সে গোল করে মেসি এখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার। এর আগে এই রেকর্ড ছিল আনহেল লাবরুনার দখলে, যিনি ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।
জাতীয় দলের জার্সিতে এটি মেসির ১১৭তম গোল। বিশ্বকাপের আগে চোট-শঙ্কা কাটিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার ফর্মে ফেরা আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেসির গল্প এখানেই শেষ হয়নি। শেষ দিকে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলেও ছিল তার সরাসরি অবদান। তার নিখুঁত পাস থেকে রদ্রিগো দি পল ডান দিক দিয়ে ক্রস পাঠান, আর সেই বল সহজ ফিনিশে জালে পাঠান থিয়াগো আলমাদা। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই মাঠে নেমে ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই ম্যাচের আরেকটি আবেগঘন দিকও ছিল। ২০১৮ বিশ্বকাপে একই আইসল্যান্ডের বিপক্ষেই পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি, যা দীর্ঘদিন তার ক্যারিয়ারের একটি অস্বস্তিকর স্মৃতি হয়ে ছিল। আট বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার আর কোনো ভুল করেননি তিনি, বরং নিশ্চিত শটে নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন নিজের ইতিহাসে।
হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তির কারণে আগের ম্যাচে তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচেও শুরু থেকে না খেলিয়ে তাকে রাখা হয়েছিল সতর্কতার সঙ্গে। তবে শেষ দিকে নেমে যে ছন্দ ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন তিনি, তা বিশ্বকাপের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা।
সব মিলিয়ে জয়, গোল আর নতুন রেকর্ড এই তিনে ভর করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখন বিশ্বকাপ অভিযানের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থানেই রয়েছে। আর ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও মেসি যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, তার ক্ষেত্রে বয়স শুধু একটি সংখ্যা ফুটবলটা এখনো তারই ভাষা।






















শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে মিশনগুলো হতে হবে আরও দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী