ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধীর পরিচয় কেবলই অপরাধী, রাজনৈতিক পরিচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী অবস্থান দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে থেমে গেলে চলবে না। যে অপরাধী, তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা আইনের লোক, কোনো বিশেষ দলের নন। কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী পরিচয় দেখে থমকে যাবেন না। যে অপরাধী, তাকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করবেন।

সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার আপসহীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রথম কাজ।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি সত্যিকারের জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের ‘আয়না’ হিসেবে অভিহিত করে অপরাধ দমনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে, তবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথ অনেক বেশি সুগম হবে।

পেশাদারিত্বের বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন থেকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, বদলি বা পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠি হবে সততা, মেধা ও দক্ষতা। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি অনেকাংশেই পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে বলে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সদস্যদের মানবিক গুণাবলী রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল এবং পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না হলে বর্তমানের চেয়ে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হতো। পরিশেষে, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পুলিশকে সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বের ইতিহাসের মাধ্যমেই প্রমাণিত সত্য। তাই ক্ষমতার পরিবর্তনশীলতাকে মাথায় রেখেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার বা প্রশাসনের পদমর্যাদা ক্ষণস্থায়ী, তাই অর্পিত দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করা এবং এই বাস্তবতা মেনে চলাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন পাল্টে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশিং আর কেবল শহর বা জেলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম (আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ)’ এখন বড় বাস্তবতা। কয়েক দশক আগের তুলনায় বর্তমানের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি বিস্তৃত। তাই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হতে হবে। সময়ের এই দাবি পূরণ করতে না পারলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অপরাধীর পরিচয় কেবলই অপরাধী, রাজনৈতিক পরিচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী অবস্থান দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে থেমে গেলে চলবে না। যে অপরাধী, তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারা আইনের লোক, কোনো বিশেষ দলের নন। কারো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী পরিচয় দেখে থমকে যাবেন না। যে অপরাধী, তাকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করবেন।

সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার আপসহীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রথম কাজ।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশ বাহিনীকে একটি সত্যিকারের জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের ‘আয়না’ হিসেবে অভিহিত করে অপরাধ দমনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে, তবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথ অনেক বেশি সুগম হবে।

পেশাদারিত্বের বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এখন থেকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, বদলি বা পদোন্নতির প্রধান মাপকাঠি হবে সততা, মেধা ও দক্ষতা। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি অনেকাংশেই পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে বলে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সদস্যদের মানবিক গুণাবলী রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল এবং পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না হলে বর্তমানের চেয়ে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হতো। পরিশেষে, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পুলিশকে সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বের ইতিহাসের মাধ্যমেই প্রমাণিত সত্য। তাই ক্ষমতার পরিবর্তনশীলতাকে মাথায় রেখেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার বা প্রশাসনের পদমর্যাদা ক্ষণস্থায়ী, তাই অর্পিত দায়িত্বকে যথাযথভাবে পালন করা এবং এই বাস্তবতা মেনে চলাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন পাল্টে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশিং আর কেবল শহর বা জেলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম (আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ)’ এখন বড় বাস্তবতা। কয়েক দশক আগের তুলনায় বর্তমানের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি বিস্তৃত। তাই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হতে হবে। সময়ের এই দাবি পূরণ করতে না পারলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।