ঢাকা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি ভূমি আইনের তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েল সরকারের নতুন ভূমি ক্রয় আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের একটি নতুন রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় তিনি বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে-ফিলিস্তিনিরা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আল কুদস আল শরিফসহ সামগ্রিক ফিলিস্তিনি ভূমির আইনি ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করার হীন উদ্দেশ্যেই ইসরায়েল এই আইন এনেছে। এর ফলে ভূমি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সভায় খলিলুর রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। তিনি ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জোরালো সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একইসঙ্গে সেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নিঃশর্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জেদ্দায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের এই নতুন ভূমি আইনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই সংকটে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি ভূমি আইনের তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েল সরকারের নতুন ভূমি ক্রয় আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের একটি নতুন রূপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় তিনি বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যেখানে বলা হয়েছে-ফিলিস্তিনিরা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আল কুদস আল শরিফসহ সামগ্রিক ফিলিস্তিনি ভূমির আইনি ও জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করার হীন উদ্দেশ্যেই ইসরায়েল এই আইন এনেছে। এর ফলে ভূমি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সভায় খলিলুর রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। তিনি ১৯৬৭ সালের আগের সীমানার ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জোরালো সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন।

ফিলিস্তিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একইসঙ্গে সেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য নিঃশর্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

জেদ্দায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের এই নতুন ভূমি আইনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই সংকটে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।