নিষেধাজ্ঞার চাপে ভঙ্গুর ইরানের অর্থনীতি, পণ্যের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ
- আপডেট সময় : ১১:১৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
কঠোরভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন করলেও ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি কোনোভাবেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারছে না খামেনি প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে গত একবছরে ইরানে সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে বের হতে না পারলে অর্থনৈতিক এ সংকটের সহজ সমাধান দেখছেন দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
দুই মাস আগেও ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ইসফাহানে এক কেজি গরুর কিনতে খরচ হত ৭ মিলিয়ন ইরানিয়ান রিয়াল। যা কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ১৯ মিলিয়ন রিয়াল। একই সময়ের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।
দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য, গত ৫ বছরের তুলনায় ইরানে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক খরচ বেড়েছে অন্তত ৮ গুণ। আর ২০১৬ সালে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০ বছরে এ খরচ বেড়েছে ৩০ গুণেরও বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে এক মাসের ব্যবধানে ইরানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের একেকটি টিকেটের দাম ন্যূনতম ২০০ মিলিয়ন ইরানীয় রিয়াল। যেখানে ২০১৭ সালে ৪ জনের একটি পরিবারের ইউরোপের টিকেট কাটতে খরচ হতো এই একই অর্থ।
২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহারের পর ইরানের ওপর বিস্তৃতভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প। তখন থেকে খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য হ্রাস পেয়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি ইরানি রিয়ালে মিলছে ১ ডলার। মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ার কারণে ইরানে আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। আর এসবের জন্যই খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরানের সাধারণ মানুষের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ।
বিবিসি’র তথ্য, ২০ বছর আগের তুলনায় ইরানের মানুষ আরও গরীব হয়েছে। কমে গেছে কাজের সুযোগ, কমেছে বার্ষিক আয়ও। আর, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যে শহর এলাকার মানুষ আনুষাঙ্গিক খরচ কমিয়েছেন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর অন্যান্য খরচ অর্ধের বেশি কমাতে হয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।
ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেয়া ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় নেই খামেনি প্রশাসনের। আতঙ্কের কারণেই হোক বা অনিশ্চয়তা-কল, কারখানায় বিনিয়োগ করার বদলে বিদেশি মুদ্রা বা স্বর্ণ কেনায় বেশি আস্থা রাখছেন ইরানের বিত্তবান শ্রেণি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে না পারলে অর্থনৈতিক সংকট থেকে সহজে বের হতে পারবে না খামেনি প্রশাসন।
























