ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম দফায় কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ২২ হাজার ৬৫ জন: কৃষিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পহেলা বৈশাখে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে এ কার্ড দেয়া হবে।

আজ (রোববার, ১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানির সংকট বিশ্বব্যাপী সমস্যা। স্যালো টিউবওয়েলের জ্বালানির সমস্যর সমাধান হয়েছে। ট্রাক্টরের জন্য তেল প্রয়োজন, এর সমস্যাও সমাধান হয়েছে। এর ফলে কৃষকের সেচ কাজের জন্য জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না। এই কার্ডের মাধ্যমে অপচয় কমবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের কারণে চাহিদার সাথে উৎপাদনের মিল থাকবে। তাই কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক পর্যায়ক্রমে চার বছরে কৃষক কার্ড পাবেন। ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফ হয়েছে সব ধরনের কৃষকের। কৃষক কার্ডে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। রাজনৈতিক বা নারী পুরুষ, কার্ড পাওয়ার যোগ্যরা এই সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে সারা দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। প্রাক পাইলটিং এই কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক এই কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ পাবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।’

কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক-পাইলটিংয়ে ১১ এপ্রিল মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। এসব কৃষকের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।’

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণও কার্ডের আওতায় থাকছে। কৃষক কার্ডধারীরা কৃষিবিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উৎপাদন বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ গ্রহণের সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক কার্ড হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রথম দফায় কৃষক কার্ড পাচ্ছেন ২২ হাজার ৬৫ জন: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে এ কার্ড দেয়া হবে।

আজ (রোববার, ১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানির সংকট বিশ্বব্যাপী সমস্যা। স্যালো টিউবওয়েলের জ্বালানির সমস্যর সমাধান হয়েছে। ট্রাক্টরের জন্য তেল প্রয়োজন, এর সমস্যাও সমাধান হয়েছে। এর ফলে কৃষকের সেচ কাজের জন্য জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না। এই কার্ডের মাধ্যমে অপচয় কমবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের কারণে চাহিদার সাথে উৎপাদনের মিল থাকবে। তাই কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক পর্যায়ক্রমে চার বছরে কৃষক কার্ড পাবেন। ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ মওকুফ হয়েছে সব ধরনের কৃষকের। কৃষক কার্ডে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। রাজনৈতিক বা নারী পুরুষ, কার্ড পাওয়ার যোগ্যরা এই সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে সারা দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। প্রাক পাইলটিং এই কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক এই কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ ও কৃষি উপকরণ পাবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।’

কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাক-পাইলটিংয়ে ১১ এপ্রিল মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। এসব কৃষকের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।’

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণও কার্ডের আওতায় থাকছে। কৃষক কার্ডধারীরা কৃষিবিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উৎপাদন বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ গ্রহণের সুবিধা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক কার্ড হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।’