ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট মাকালু শিখরে বাবর আলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু জয় করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলী। শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এই দুর্গম চূড়ায় পদার্পণ করেন।

এর মাধ্যমে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭,৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বত জয়ের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এটি বাবরের পঞ্চম আট হাজারি (আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতাসম্পন্ন পর্বত) শৃঙ্গ জয়।

অভিযানের আয়োজক ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর সভাপতি ফরহান জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নেপালের মাউন্ট মাকালু অ্যাডভেঞ্চারের স্বত্বাধিকারী মোহন লামসালের মাধ্যমে তারা বাবরের সাফল্যের খবর পেয়েছেন। শিখর জয়ে বাবরের সঙ্গে ছিলেন নেপালি গাইড আং কামি শেরপা।

‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমানস গ্রোসারি।

মহা-কালো বা গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান নামে পরিচিত এই পর্বতটি আরোহণের উদ্দেশ্যে বাবর গত ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। ৯ এপ্রিল টুমলিংটার থেকে যাত্রা শুরু করে ১৮ এপ্রিল তিনি বেসক্যাম্পে পৌঁছান। উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নিতে তিনি ২১ এপ্রিল ক্যাম্প-১ এবং ২২ এপ্রিল ক্যাম্প-২ পর্যন্ত আরোহণ করে পুনরায় বেসক্যাম্পে ফিরে আসেন। এরপর অনুকূল আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষার পালা শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। ওই দিন তিনি বেসক্যাম্প থেকে সরাসরি ৬৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ পৌঁছান। পরদিন ১ মে তিনি ৭৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ আরোহণ করেন এবং সেই রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত শিখর অভিযান। একটানা ১১০০ মিটারের বেশি খাড়া ও বরফাবৃত পথ পাড়ি দিয়ে আজ ভোরে তিনি মাকালুর চূড়ায় লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান।

পেশায় চিকিৎসক বাবর আলীর পর্বতারোহণে হাতেখড়ি ২০১০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর মাধ্যমে। তবে হিমালয়ের শৃঙ্গে তার সাফল্যযাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৭ সালে তিনি ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তিনি ২০২২ সালে হিমালয়ের অত্যন্ত দুর্গম ও কারিগরিভাবে কঠিন চূড়া আমা দাবলাম (২২,৩৪৯ ফুট) আরোহণ করেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। ২০২৪ সালে একই অভিযানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (২৯,০৩৫ ফুট) ও চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে (২৭,৯৪০ ফুট) আরোহণ করেন। যা কোনো বাংলাদেশির জন্য প্রথম রেকর্ড। ২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আরোহণ করেন বিশ্বের দশম উচ্চতম পর্বত অন্নপূর্ণা-১ (২৬,৫৪৫ ফুট)। ২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কোনো ধরনের কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই জয় করেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মানাসলু (২৬,৭৮১ ফুট)।

অভিযান ব্যবস্থাপক ফরহান জামান আশা করছেন, বাবর আজ ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করবেন এবং আগামীকাল ৩ মে বেসক্যাম্পে নেমে আসবেন। পৃথিবীর ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয়ের যে স্বপ্ন বাবর দেখছেন, মাকালু জয় সেই পথে তার পঞ্চম বড় মাইলফলক।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট মাকালু শিখরে বাবর আলী

আপডেট সময় : ০১:৩৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু জয় করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলী। শনিবার (২ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি এই দুর্গম চূড়ায় পদার্পণ করেন।

এর মাধ্যমে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭,৮৩৮ ফুট) উচ্চতার এই পর্বত জয়ের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এটি বাবরের পঞ্চম আট হাজারি (আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতাসম্পন্ন পর্বত) শৃঙ্গ জয়।

অভিযানের আয়োজক ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স-এর সভাপতি ফরহান জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নেপালের মাউন্ট মাকালু অ্যাডভেঞ্চারের স্বত্বাধিকারী মোহন লামসালের মাধ্যমে তারা বাবরের সাফল্যের খবর পেয়েছেন। শিখর জয়ে বাবরের সঙ্গে ছিলেন নেপালি গাইড আং কামি শেরপা।

‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এই অভিযানের পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যারস লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমানস গ্রোসারি।

মহা-কালো বা গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান নামে পরিচিত এই পর্বতটি আরোহণের উদ্দেশ্যে বাবর গত ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন। ৯ এপ্রিল টুমলিংটার থেকে যাত্রা শুরু করে ১৮ এপ্রিল তিনি বেসক্যাম্পে পৌঁছান। উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নিতে তিনি ২১ এপ্রিল ক্যাম্প-১ এবং ২২ এপ্রিল ক্যাম্প-২ পর্যন্ত আরোহণ করে পুনরায় বেসক্যাম্পে ফিরে আসেন। এরপর অনুকূল আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষার পালা শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। ওই দিন তিনি বেসক্যাম্প থেকে সরাসরি ৬৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২-এ পৌঁছান। পরদিন ১ মে তিনি ৭৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ আরোহণ করেন এবং সেই রাতেই শুরু করেন চূড়ান্ত শিখর অভিযান। একটানা ১১০০ মিটারের বেশি খাড়া ও বরফাবৃত পথ পাড়ি দিয়ে আজ ভোরে তিনি মাকালুর চূড়ায় লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান।

পেশায় চিকিৎসক বাবর আলীর পর্বতারোহণে হাতেখড়ি ২০১০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোর মাধ্যমে। তবে হিমালয়ের শৃঙ্গে তার সাফল্যযাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৭ সালে তিনি ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তিনি ২০২২ সালে হিমালয়ের অত্যন্ত দুর্গম ও কারিগরিভাবে কঠিন চূড়া আমা দাবলাম (২২,৩৪৯ ফুট) আরোহণ করেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। ২০২৪ সালে একই অভিযানে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (২৯,০৩৫ ফুট) ও চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে (২৭,৯৪০ ফুট) আরোহণ করেন। যা কোনো বাংলাদেশির জন্য প্রথম রেকর্ড। ২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আরোহণ করেন বিশ্বের দশম উচ্চতম পর্বত অন্নপূর্ণা-১ (২৬,৫৪৫ ফুট)। ২০২৫ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কোনো ধরনের কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই জয় করেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মানাসলু (২৬,৭৮১ ফুট)।

অভিযান ব্যবস্থাপক ফরহান জামান আশা করছেন, বাবর আজ ক্যাম্প-২-এ অবস্থান করবেন এবং আগামীকাল ৩ মে বেসক্যাম্পে নেমে আসবেন। পৃথিবীর ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয়ের যে স্বপ্ন বাবর দেখছেন, মাকালু জয় সেই পথে তার পঞ্চম বড় মাইলফলক।