প্রয়াত হলেন প্রবীণ সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে
- আপডেট সময় : ০১:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
প্রয়াত হলেন প্রবীণ সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আগামীকাল সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। আশার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের তথ্য অনুসারে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তারপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আচমকাই শরীরে অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অস্বস্তির কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। তখনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এমনটাই খবর হাসপাতাল সূত্রে। তার পর তড়িঘড়ি তাঁকে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রোববার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মগ্রহণকারী আশা ভোঁসলের শৈশব কেটেছিল এক সংগীতময় পরিবেশে। তবে, খুব অল্প বয়সে তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যু তাঁর পরিবারকে বিধ্বস্ত করে দেয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে এবং তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরকে অল্প বয়সেই কাজ শুরু করতে হয়েছিল এবং পুনে থেকে মুম্বাইয়ের যাত্রা ছিল এক সংগ্রাম। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আশা ভোঁসলে তাঁর চেয়ে অনেক বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন। এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল, তাঁর বিবাহিত জীবন ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত।
বলা হয় যে তার স্বামীর আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা তাঁকে মানসিক ও শারীরিক কষ্ট দিত। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে তিনি গর্ভাবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু বেঁচে যান। অবশেষে ১৯৬০ সালে তিনি এই সম্পর্কের ইতি টানেন। পরে তিনি সঙ্গীতজ্ঞ আর ডি বর্মনকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে তার মেয়ে বর্ষা ভোঁসলে আত্মহত্যা করেন, যা তার জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। এর কয়েক বছর পর, ২০১৫ সালে, তার ছেলে হেমন্ত ভোঁসলে ক্যান্সারে মারা যান। দুঃখ ও সংগ্রাম সত্ত্বেও আশা ভোঁসলে কখনও হাল ছাড়েননি। তিনি তাঁর বেদনাকে কণ্ঠের মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন এবং আজও তাঁকে সঙ্গীত জগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে গণ্য করা হয়।
দীর্ঘ কয়েক দশকের কেরিয়ারে হিন্দি, বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
শনিবার আশা ভোঁসলে হাসপাতলে ভর্তি হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা এক বার্তায় মোদি বলেছিলেন, “আশা ভোসলেজি হাসপাতালে ভর্তি শুনে গভীর ভাবে চিন্তিত। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
























পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের স্পিকার কালিবাফের সাক্ষাৎ