বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা দেশে উদযাপিত বাংলা নববর্ষ
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সারা দেশে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলার মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় সর্বস্তরের মানুষ।
খুলনা
খুলনায় নববর্ষ বরণ করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি পহেলা বৈশাখ মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসন চত্বরের ‘বনবিথি’তে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে খড়ের ঘর আকৃতির এক ব্যতিক্রমী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া পাবলিক লাইব্রেরির মাঠ ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে পান্তা-ইলিশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ছিল।
ফরিদপুর
ফরিদপুরে সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। পরে সাহিত্য উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে স্বাধীন চত্বরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিনটি উপলক্ষে স্থানীয় কারাগার ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
বরিশাল
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ও নানা আয়োজন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। সকাল থেকে নগরজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আবহ। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বরিশাল নাটকের আয়োজনে নগরীর ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য প্রভাতী অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে রঙ-বেরঙের পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বৈশাখের চিরচেনা গান এসো হে বৈশাখ এসো এসো পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রভাতী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর একে একে গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রাখি বন্ধন ও ঢাকের বাদ্যে শুরু হয় শোভাযাত্রা। প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে চারুকলার আয়োজনে বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বরিশাল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর উদ্বোধন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। এটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
নগরবাসীর নজর কাড়তে শোভাযাত্রায় আবহমান গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপকরণ হাতে নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
রাজশাহী
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৭টায় কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। এটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
সিলেট
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে নতুন বাংলা বছরকে বরণ করছে সিলেটবাসী। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর চলছে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির আয়োজন। নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। সকাল ৮টায় নগরের সুবিদবাজার এলাকার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শ্রুতি’র বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। উদ্বোধন করেন প্রবীণ বাউলশিল্পী আবদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ অঞ্চলের মানুষও সেই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।’ এ সময় তিনি সিলেটে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।
এদিকে সকালে কেওয়াপাড়া এলাকার শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে ‘আনন্দলোক সিলেট’-এর উদ্যোগে আরেকটি বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর
রংপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৮টায় রংপুর জিলা স্কুলের বটতলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ রংপুরের আয়োজনে শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গান গাওয়ার মাধ্যমে বরণ করা হয় বাংলা নববর্ষকে। কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজ উন-নবী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বক্তব্যে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণের আহ্বান জানান।
পরে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি জিলা স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়। রঙিন মুখোশ, প্ল্যাকার্ড ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
লক্ষীপুর
লক্ষীপুর আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। এ দিন সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
যশোর
যশোরে ভোরে উদীচীর আয়োজনে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু হয়। এ বছর সংগঠনটির আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বাড়তি আয়োজন ছিল। শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অনুষ্ঠান হয়। বর্ষবরণ শোভাযাত্রার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত যশোরে টাউনহল মাঠ থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রায় বিশাল মোরগের রেপ্লিকা বিশেষ আকর্ষণ ছিল।
নাটোর
নাটোরে মহারাজা জগদীন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য, গীত, লাঠিখেলা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পান্তা পরিবেশন করা হয়।
পাবনা
পাবনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রফিকুল ইসলাম স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়।
রাঙামাটি
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে সেখানে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
সকাল ৯টায় রাঙামাটির রাজবন বিহারের মাঠ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশেষ ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বছরে সুখ, সমৃদ্ধি কামনা করে বিহারে করা হয় প্রার্থনা। অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন রাজবনবিহারের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বিজয় গিরি চাকমা। পঞ্চশীল গ্রহণ শেষে মৈত্রী ভাবনা ও পরিত্রাণ সূত্র শ্রবণ করা হয়। পরে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দান, সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকা দানোৎসর্গ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ভেদাভেদ না রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে পার্বত্য অঞ্চলসহ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে।
নওগাঁ
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণে আনন্দ শোভাযাত্রায় নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সকাল ৯টায় মৌসুমী বিদ্যানিকেতনের আয়োজনে শহরের উকিলপাড়া থেকে বের করা হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। সেটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৌসুমী বিদ্যানিকেতনের চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌসুমীর প্রধান নির্বাহী মো. এরফান আলী। এ ছাড়াও সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।
ঠাকুরগাঁও
বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপিত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। নববর্ষকে বরণ করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন নানা সাংস্কৃতিক, কৃষিভিত্তিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে। ভোরে শহরের আদালত চত্বরের বটতলায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের সূচনা হয়। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা রাগভৈরবীসহ বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানান।
এ সময় রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগান, ভাওয়াইয়া ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ। প্রভাতী অনুষ্ঠানের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।
বগুড়া
বগুড়ায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করা হয়েছে। সকালে শহরের এডওয়ার্ড পৌর পার্কে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এরপর এসো হে বৈশাখ গানের তালে নৃত্যে নতুন বছরকে বরণ করে নেন বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের কর্মীরা।
এরপর অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, খাগরাই, মুড়কি, বাতাসাসহ দেশীয় খাবারে মিষ্টিমুখ করানো হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসবে সবাইকে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষকে। মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী মেলার মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে বইছে পহেলা বৈশাখের আনন্দধারা। সকাল ৮টায় কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সংগীত ও বর্ষবরণের চিরচেনা গান ‘এসো হে বৈশাখ’ গাওয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হওয়া শোভাযাত্রায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ—পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, মুখোশ ও পুতুল—দৃষ্টি কাড়ে। ‘এসো হে বৈশাখ’-এর সুরে মুখরিত হয় পরিবেশ। স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা বসে।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় চাঁদমারি মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। ৫১টি সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পহেলা বৈশাখ। বর্তমানে কালের পরিক্রমায় আমাদের যে সকল সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে, তা যেন আমরা বুকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করতে পারি।’
এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাঠিখেলা ও মোরগ লড়াই, গোপালগঞ্জে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং নোয়াখালীতে লোকজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশে এই উৎসব উদযাপনে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংহতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
























পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের স্পিকার কালিবাফের সাক্ষাৎ