বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
পহেলা বৈশাখ মানেই একসময় ছিল হালখাতার মৌসুম। ডিজিটাল বাংলাদেশে সেই পরিবেশ এখন নেই বললেই চলে। তবে বৈশাখী বার্তায় আবাহন চলে নতুনের। প্রাণ-প্রকৃতিও নেচে ওঠে একই সুরে। দেশ ও দশের কল্যাণের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস আর ভালো লাগার কমতি নেই।
সূর্যোদয়ের পর রাজধানীর রমনার বটমূলে শুরু হয়েছে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়ার এই প্রভাতি আয়োজনের সূচনা হয়। এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
এবারের আয়োজনটি সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ এবং জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান ও বিভিন্ন লোকগান দিয়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে মোট ২২টি গান পরিবেশন করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৮টি সম্মেলক এবং ১৪টি একক কণ্ঠের গান।
পাশাপাশি দুটি পাঠের আয়োজনও রয়েছে। ছায়ানটের শিশু বিভাগসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন শিল্পী আজকের এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।
দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। ভয়ের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে সংগীতের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরার এই আয়োজন কালক্রমে দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা, যেখানে লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করে বৃহৎ পরিসরে সর্বজনীন অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রার থিম ও মোটিফে ফুটে উঠবে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে দেবে এক অনন্য মাত্রা। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তা—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।
এবারের শোভাযাত্রায় ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’—এই পাঁচটি মোটিফ বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রার আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এতে অংশ নেবে ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
দিনটি ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর বাইরেও জেলায় জেলায় চলছে বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন।























পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের স্পিকার কালিবাফের সাক্ষাৎ