ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে ছুটির আমেজ, সবজিতে স্বস্তি, মাছের দাম উর্ধ্বমুখী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পণ্যের যোগান স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে ছুঁয়েছে ঈদের ছুটির আমেজ। যার ফলে ছুটির দিনে আজ শুক্রবার বাজারে ক্রেতার আনাগোনা কমেছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারে। সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে মসলার বাজারে তেজিভাব দেখা গেছে। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, এলাচ, গরম মসলা, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ অনেকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির বাজারের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা কমে প্রকারান্তরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ টাকা, সাজনা কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও ধুন্দল হাইব্রিড ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা কেজি ২০০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১৫০ টাকা, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস ও ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচা আম প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

বাজারগুলোতে টমেটো প্রকারভেদে কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।

সবজির দাম বিষয়ে একই বাজারের সবজি বিক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কমে গেছে। মূলত সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। বাকি সব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৯৫ টাকার ওপরে। একইভাবে দর কমেছে সোনালি জাতের মুরগির। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ৩৩০ টাকা। ডজন প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। সোনালি কক মুরগি ৩২০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মুরগী বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। তাই মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, মাছের দাম আগে যেমন ছিল, এখন তেমনই রয়েছে। এখন যে দাম দিয়ে কিনবেন, বিকেলে কিন্তু সেই দাম লাগবে না। মাছের দাম সব সময় একই থাকে না। বাজারে বেশি মাছ আসলে দাম কমে। পাঙাশ বেশি এসেছে, তাই ১৮০ থেকে ২০০ টাকাতেও বিক্রি করেছি। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। এ ছাড়া সব মাছের দাম আগের মতোই আছে।

এদিকে মসলার বাজারে এলাচের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়ে চার হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিসমিসের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০ থেকে ২৮০, হলুদ গুঁড়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং শুকনো মরিচ গুঁড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, জিরা ৬৫০ থেকে ৭০০, জিরার গুঁড়া ৮০০, লবঙ্গ ১৪০০ থেকে ১৬০০ এবং এলাচ ৪৬০০-৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঠবাদাম ১৪৩০ টাকা, গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা, চীনা বাদাম ২০০ টাকা কেজি এবং খোলা সয়াবিন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাজারে ছুটির আমেজ, সবজিতে স্বস্তি, মাছের দাম উর্ধ্বমুখী

আপডেট সময় : ০২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

পণ্যের যোগান স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে ছুঁয়েছে ঈদের ছুটির আমেজ। যার ফলে ছুটির দিনে আজ শুক্রবার বাজারে ক্রেতার আনাগোনা কমেছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারে। সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে মসলার বাজারে তেজিভাব দেখা গেছে। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, এলাচ, গরম মসলা, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ অনেকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির বাজারের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা কমে প্রকারান্তরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৫০ টাকা, সাজনা কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও ধুন্দল হাইব্রিড ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা কেজি ২০০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১৫০ টাকা, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস ও ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচা আম প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

বাজারগুলোতে টমেটো প্রকারভেদে কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।

সবজির দাম বিষয়ে একই বাজারের সবজি বিক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কমে গেছে। মূলত সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। বাকি সব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ১৯৫ টাকার ওপরে। একইভাবে দর কমেছে সোনালি জাতের মুরগির। এ জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে ৩৩০ টাকা। ডজন প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। সোনালি কক মুরগি ৩২০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মুরগী বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। তাই মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতিকেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া বলেন, মাছের দাম আগে যেমন ছিল, এখন তেমনই রয়েছে। এখন যে দাম দিয়ে কিনবেন, বিকেলে কিন্তু সেই দাম লাগবে না। মাছের দাম সব সময় একই থাকে না। বাজারে বেশি মাছ আসলে দাম কমে। পাঙাশ বেশি এসেছে, তাই ১৮০ থেকে ২০০ টাকাতেও বিক্রি করেছি। তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। এ ছাড়া সব মাছের দাম আগের মতোই আছে।

এদিকে মসলার বাজারে এলাচের দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়ে চার হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিসমিসের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০ থেকে ২৮০, হলুদ গুঁড়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং শুকনো মরিচ গুঁড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, জিরা ৬৫০ থেকে ৭০০, জিরার গুঁড়া ৮০০, লবঙ্গ ১৪০০ থেকে ১৬০০ এবং এলাচ ৪৬০০-৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঠবাদাম ১৪৩০ টাকা, গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা, চীনা বাদাম ২০০ টাকা কেজি এবং খোলা সয়াবিন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।