ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আসামির পক্ষে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান তার ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী এই হত্যা মামলার আসামির পক্ষে আদালতে লড়বেন না।

তিনি জানান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকারীর পক্ষে তারা মামলা পরিচালনা করতে চান না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে বার্তা পৌঁছাবে যে, তাদের কোনোভাবেই পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আদালত চাইলে তার পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন বলেও জানান ঢাকা বারের সভাপতি।

এদিকে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটের বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সকালে রামিসা তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা চালানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও অভিযুক্ত সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আসামির পক্ষে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না। ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান তার ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী এই হত্যা মামলার আসামির পক্ষে আদালতে লড়বেন না।

তিনি জানান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকারীর পক্ষে তারা মামলা পরিচালনা করতে চান না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে বার্তা পৌঁছাবে যে, তাদের কোনোভাবেই পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আদালত চাইলে তার পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন বলেও জানান ঢাকা বারের সভাপতি।

এদিকে রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার পরিবারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওই ফ্ল্যাটের বাথরুমে রাখা একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সকালে রামিসা তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানেই তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা চালানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লোকজন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রাখলেও অভিযুক্ত সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।