ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসায় পৌঁছেছেন তিনি।

এ সময় তার বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ও সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ আরও অনেকেই।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষেই তিনি সরাসরি শিশু রামিসার বাসায় যান।

এদিকে, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার মা পারভীন আক্তার বললেন, আমি একটা চিৎকার শুনেছি, সেটা যে ওর (রামিসা) ছিল তা বুঝতে পারিনি।

পারভীন আক্তার আরও বলেন, আমি রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওকে বলছিলাম, দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে স্কুল ড্রেস পরতে। এরপর ও পাশের রুমে যায় দাঁত ব্রাশ করতে।

অন্যদিকে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শোয়ার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

জবানবন্দিতে সোহেল আদালতকে আরও জানায়, অপরাধ সংঘটনের আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। তবে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু রামিসার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বাসায় পৌঁছেছেন তিনি।

এ সময় তার বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন ও সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ আরও অনেকেই।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষেই তিনি সরাসরি শিশু রামিসার বাসায় যান।

এদিকে, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার মা পারভীন আক্তার বললেন, আমি একটা চিৎকার শুনেছি, সেটা যে ওর (রামিসা) ছিল তা বুঝতে পারিনি।

পারভীন আক্তার আরও বলেন, আমি রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওকে বলছিলাম, দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে স্কুল ড্রেস পরতে। এরপর ও পাশের রুমে যায় দাঁত ব্রাশ করতে।

অন্যদিকে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা।

আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শোয়ার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

জবানবন্দিতে সোহেল আদালতকে আরও জানায়, অপরাধ সংঘটনের আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। তবে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।