রাঙামাটিতে সাংগ্রাই জলকেলিতে মাতলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মৈত্রী পানি বর্ষণ’ উৎসবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব। পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের এই আয়োজনে পাহাড়ি জনপদ এখন উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে জল ছিটিয়ে ও নেচে-গেয়ে দিনটি উদ্যাপন করেছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি শহরের চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এই মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবের আয়োজন করে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন উৎসব- বিজু, বৈষু, বিহু, সাংগ্রাই ও সাক্রানকে ঘিরে গত ৬ এপ্রিল থেকে পাহাড়ে যে বর্ণিল উৎসব শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতা পেল এই সাংগ্রাইয়ের জলকেলিতে। মারমা সংস্কৃতি অনুযায়ী, পছন্দের মানুষকে পবিত্র জল ছিটিয়ে পুরনো বছরের সকল গ্লানি, জরা, ব্যাধি ও কষ্ট ধুয়ে মুছে ফেলা হয়। একইসঙ্গে নতুন বছরে সবার সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামের মূল অনুষ্ঠানের বাইরেও পুরো শহর জুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দ ভাগাভাগি করতে যোগ দেন স্থানীয় বাঙালি বাসিন্দারাও। পাহাড়ি-বাঙালির এই মিলনমেলায় অংশ নিতে দেখা গেছে অনেক বিদেশি পর্যটককে। জলকেলি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
এসময় পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পাহাড়ের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি বাংলাদেশের সম্পদ।
মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পাইচি মং মারমা জানান, প্রতি বছরই সম্প্রীতির পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষে তারা এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন করে থাকেন। যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই একাত্ম হয়।
গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ের এই বৃহৎ সামাজিক উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা আজ মারমা সম্প্রদায়ের এই পানি বর্ষণের মাধ্যমে শেষ হলো। তরুণ-তরুণীরা জানান, মৈত্রী জল ছিটানোর মাধ্যমে তারা কেবল আনন্দই করছেন না, বরং আগামীর একটি সুন্দর ও রোগমুক্ত পৃথিবীর জন্য প্রার্থনা করছেন।























রাঙামাটিতে সাংগ্রাই জলকেলিতে মাতলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা