ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস-এর ১৩ বছর আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৯ তলা ভবনটি ধসে পড়লে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক। আহত ও পঙ্গু হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে গার্মেন্টস শিল্পে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত। তবে এত দীর্ঘ সময়েও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য না দেওয়ায় এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রয়োজনে সাক্ষী তালিকা সংক্ষেপ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

নৃশংস এই ঘটনায় ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০১৬ সালে বিচার শুরু হলেও আসামিপক্ষের দফায় দফায় উচ্চ আদালতে রিট ও আবেদনের কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত মামলাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে থাকে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন ২ হাজারের বেশি। ১৩ বছর পেরিয়েও ভবন ধ্বসের সেই ভয়াবহ আর্তনাদ এখনও থামেনি।

যেদিন রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ে তার আগের দিনই ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও পরদিন শ্রমিকদের কাজে আসতে বাধ্য করা হয়। এরপরে জেনারেটর চালু হতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে পুরো ভবন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরের বছর ২০১৬ সালের জুনে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান আট আসামি।

আলোচিত এই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে একমাত্র আসামি সোহেল রানা জেল হাজতে আটক রয়েছেন। সোহেল রানার বাবাসহ তিন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন, পলাতক রয়েছেন ১০ আসামি আর হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন ২৭ আসামি।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় প্রসিকিউশন যারা ছিলেন তাদের ভেতরে সাক্ষীদের নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করার মানসিকতা দেখতে পাইনি। তবে এখন আমরা অগ্রসর হয়েছি। মামলায় ডেভলপমেন্ট হয়েছে। সাক্ষী প্রয়োজন মামলার জন্য। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫জন। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে গুরুত্ব দেয়ায় এই মামলার অগ্রগতি বেড়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌসুলি আশা এ বছরের মধ্যেই এ মামলার রায় পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘যারা টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন তাদেরকে আমরা সমন ইস্যু করেছি। আপনার এর ভেতরে পুলিশ আছেন, ডাক্তার আছেন, স্পেশালি ইঞ্জিনিয়ারস আছেন। আমরা তাদেরকে সমন দিয়েছি এবং আগামী ৩০ তারিখে আমাদের পরবর্তী ধার্য তারিখ আছে। এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরে আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণগুলো সম্পন্ন হবে এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরেই আমরা একটা ভার্ডিক্ট পেতে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, বিচার শেষ না হওয়ায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে রানাকে। তিনি মনে করেন রানা প্লাজার ভবন ধ্বস নিছক একটি দুর্ঘটনা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন বলেন, ‘রানা নির্দোষ। এই রানা প্লাজা ভবন ধসের ক্ষেত্রে রানার কোনো হাত নাই। ভবনটা ধসে পড়ে গেছে। এটি একটা দুর্ঘটনা। তবে আমার বক্তব্য হলো, রানা বিনা বিচারে একেবারে বিনা বিচারে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত জেলহাজতে আছে।’

দীর্ঘ তেরো বছর পেরিয়েও ঝুলে থাকা এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রশ্ন এখন একটাই-রানা প্লাজার সেই মৃত্যুর মিছিলের বিচার শেষ হবে কবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

আপডেট সময় : ১২:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস-এর ১৩ বছর আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৯ তলা ভবনটি ধসে পড়লে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক। আহত ও পঙ্গু হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে গার্মেন্টস শিল্পে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত। তবে এত দীর্ঘ সময়েও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য না দেওয়ায় এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রয়োজনে সাক্ষী তালিকা সংক্ষেপ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

নৃশংস এই ঘটনায় ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০১৬ সালে বিচার শুরু হলেও আসামিপক্ষের দফায় দফায় উচ্চ আদালতে রিট ও আবেদনের কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত মামলাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে থাকে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন ২ হাজারের বেশি। ১৩ বছর পেরিয়েও ভবন ধ্বসের সেই ভয়াবহ আর্তনাদ এখনও থামেনি।

যেদিন রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ে তার আগের দিনই ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও পরদিন শ্রমিকদের কাজে আসতে বাধ্য করা হয়। এরপরে জেনারেটর চালু হতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে পুরো ভবন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরের বছর ২০১৬ সালের জুনে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান আট আসামি।

আলোচিত এই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে একমাত্র আসামি সোহেল রানা জেল হাজতে আটক রয়েছেন। সোহেল রানার বাবাসহ তিন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন, পলাতক রয়েছেন ১০ আসামি আর হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন ২৭ আসামি।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় প্রসিকিউশন যারা ছিলেন তাদের ভেতরে সাক্ষীদের নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করার মানসিকতা দেখতে পাইনি। তবে এখন আমরা অগ্রসর হয়েছি। মামলায় ডেভলপমেন্ট হয়েছে। সাক্ষী প্রয়োজন মামলার জন্য। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫জন। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে গুরুত্ব দেয়ায় এই মামলার অগ্রগতি বেড়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌসুলি আশা এ বছরের মধ্যেই এ মামলার রায় পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘যারা টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন তাদেরকে আমরা সমন ইস্যু করেছি। আপনার এর ভেতরে পুলিশ আছেন, ডাক্তার আছেন, স্পেশালি ইঞ্জিনিয়ারস আছেন। আমরা তাদেরকে সমন দিয়েছি এবং আগামী ৩০ তারিখে আমাদের পরবর্তী ধার্য তারিখ আছে। এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরে আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণগুলো সম্পন্ন হবে এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরেই আমরা একটা ভার্ডিক্ট পেতে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, বিচার শেষ না হওয়ায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে রানাকে। তিনি মনে করেন রানা প্লাজার ভবন ধ্বস নিছক একটি দুর্ঘটনা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন বলেন, ‘রানা নির্দোষ। এই রানা প্লাজা ভবন ধসের ক্ষেত্রে রানার কোনো হাত নাই। ভবনটা ধসে পড়ে গেছে। এটি একটা দুর্ঘটনা। তবে আমার বক্তব্য হলো, রানা বিনা বিচারে একেবারে বিনা বিচারে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত জেলহাজতে আছে।’

দীর্ঘ তেরো বছর পেরিয়েও ঝুলে থাকা এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রশ্ন এখন একটাই-রানা প্লাজার সেই মৃত্যুর মিছিলের বিচার শেষ হবে কবে?