ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে সুবিধা পেতে ইরানের সঙ্গে ইরাক ও পাকিস্তানের জ্বালানিচুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ইরানের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে ইরাক ও পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই এই চুক্তির বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই এই চ্যানেল দিয়ে সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখায় তেহরান প্রথমে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। তবে এখন অবস্থান বদলে তারা সেখানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করছে। স্টয়ারের মতে, হরমুজ এখন আর কোনো নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, বরং এটি একটি ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’।

প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক। কারণ, বাগদাদের বাজেটের ৯৫ শতাংশই তেল রপ্তানি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে দুই দেশের মধ্যকার একটি অপ্রকাশিত চুক্তির পর গত রোববার ইরাকের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার মতে, ইরাকের অর্থনীতি ভেঙে পড়লে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষুণ্ন হবে, এই বিবেচনাতেই তেহরান তাদের ছাড় দিচ্ছে। বর্তমানে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাগদাদ।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানও তেহরানের সঙ্গে আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছেছে। দেশটিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। শিল্প খাতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার বর্তমানে পাকিস্তানের পথে রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই এলএনজি ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো যেত।

সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে যে, এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতির জন্য ইরাক বা পাকিস্তান কেউই সরাসরি ইরান বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে (আইআরজিসি) কোনো অর্থ প্রদান করেনি। দ্বিপাক্ষিক এই চুক্তিতে কাতার সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, পাকিস্তানে জ্বালানি পাঠানোর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি অবহিত করেছে।

তবে এসব চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে ইরাক সরকার, পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষেরই মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজে সুবিধা পেতে ইরানের সঙ্গে ইরাক ও পাকিস্তানের জ্বালানিচুক্তি

আপডেট সময় : ১২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ইরানের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে ইরাক ও পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই এই চুক্তির বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই এই চ্যানেল দিয়ে সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখায় তেহরান প্রথমে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। তবে এখন অবস্থান বদলে তারা সেখানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করছে। স্টয়ারের মতে, হরমুজ এখন আর কোনো নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, বরং এটি একটি ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’।

প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক। কারণ, বাগদাদের বাজেটের ৯৫ শতাংশই তেল রপ্তানি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে দুই দেশের মধ্যকার একটি অপ্রকাশিত চুক্তির পর গত রোববার ইরাকের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার মতে, ইরাকের অর্থনীতি ভেঙে পড়লে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষুণ্ন হবে, এই বিবেচনাতেই তেহরান তাদের ছাড় দিচ্ছে। বর্তমানে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাগদাদ।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তানও তেহরানের সঙ্গে আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছেছে। দেশটিতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। শিল্প খাতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার বর্তমানে পাকিস্তানের পথে রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই এলএনজি ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে প্রতি মাসে প্রায় ১০টি এলএনজি কার্গো যেত।

সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে যে, এসব জাহাজ চলাচলের অনুমতির জন্য ইরাক বা পাকিস্তান কেউই সরাসরি ইরান বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে (আইআরজিসি) কোনো অর্থ প্রদান করেনি। দ্বিপাক্ষিক এই চুক্তিতে কাতার সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, পাকিস্তানে জ্বালানি পাঠানোর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি অবহিত করেছে।

তবে এসব চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে ইরাক সরকার, পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষেরই মন্তব্য পাওয়া যায়নি।