৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে বাকি ২ শতাংশ শিশুকেও টিকার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ (বুধবার, ১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, হামের পর অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়, আর এমন পরিস্থিতিতে ভেন্টিলেশনই প্রধান সহায়তা হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। একটি বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস উদ্যোক্তার মাধ্যমে এই সহায়তা এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব সরঞ্জাম দ্রুত বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, আইসোলেশন সেবা, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসকদের প্রস্তুতি সবকিছুই চলমান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
টিকাদান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, চীনের সিনোভ্যাকের মাধ্যমে চীনা সরকারের সমর্থনসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমান। এসব ভ্যাকসিন বিভিন্ন টিকাদান কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও জানান, পোলিও টিকা কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং অ্যান্টির্যাবিস টিকাদানও নিয়মিতভাবে চলবে।
এসময় জুন মাস থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ঘাটতি থাকলেও জুন নাগাদ তা পূরণ হয়ে যাবে। আর হাম নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে অনেক ভুল তথ্য আসছে।’
সরকারের কাছে পর্যাপ্ত হামের টিকা আছে বলেও জানান তিনি। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত আমলে হামের টিকা কেন দেয়া হয়নি তা নিয়ে তদন্ত করবে সরকার।’ তবে তদন্তের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, কোভিড-১৯, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়ে চীনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের চলমান কর্মসূচিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহযোগিতার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট টিকা না থাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে রোগীর চাপ সামাল দিতে মোবাইল হাসপাতাল, অতিরিক্ত বেড এবং আইসোলেশন ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চীন থেকে সাম্প্রতিক ভ্যাকসিন সহায়তা এবং ভবিষ্যতে টিবি ও পোলিওসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকাদান কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের আহ্বানও তিনি জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, যা স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে “অটুট ও অবিচ্ছেদ্য” বন্ধুত্ব হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।




















২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু