ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যার আসামিদের ভারত থেকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেপ্তারকৃত এ দুই আসামিকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ (রোববার, ৮ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে— বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে রোববার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত দুই বাংলাদেশী নাগরিক হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালী এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

এসটিএফ সূত্রে খবর, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। সবশেষে তাদের অবস্থান ছিল বনগাঁয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এসটিএফের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

আজ ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গণমাধ্যম এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফয়সালের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের অপর আরেক অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ।

এসটিএফ জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ভারত সফর করেন। তিনি এ সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদী হত্যা মামলার আসামিসহ সব সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলোচিত ওই দুই খুনের আসামিকে আজ গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

এছাড়া বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালাবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি।

১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাদি হত্যার আসামিদের ভারত থেকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় : ১১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেপ্তারকৃত এ দুই আসামিকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ (রোববার, ৮ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে— বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে রোববার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃত দুই বাংলাদেশী নাগরিক হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালী এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

এসটিএফ সূত্রে খবর, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন দুজনেই হাদীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা উভয়ই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। সবশেষে তাদের অবস্থান ছিল বনগাঁয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এসটিএফের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

আজ ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি গণমাধ্যম এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফয়সালের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের অপর আরেক অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে এসটিএফ।

এসটিএফ জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই গ্রেপ্তারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ হাদি হত্যার পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিজিএফআইয়ের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ভারত সফর করেন। তিনি এ সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে হাদী হত্যা মামলার আসামিসহ সব সন্ত্রাসীদের আটক করে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলোচিত ওই দুই খুনের আসামিকে আজ গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

এছাড়া বাংলাদেশের আহ্বানের প্রেক্ষিতে ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালাবে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি।

১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল ও আলমগীরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।