ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ টাকায় উৎপাদন ৫ টাকায় বিক্রি, ফেলে দেওয়া হচ্ছে আলু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘হিমাগারে জায়গা সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে পড়ে উৎপাদিত আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম থাকায় তারা এখন চরম লোকসানের মুখে। এক কেজি আলু উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১৮ টাকা, আর পাইকাররা দেয় মাত্র ৫ টাকা। হিমাগারে রাখলেও খরচ বেশি তাই ঘরেই রেখেছিলাম। কিন্তু ৮০ বস্তা আলু পচে শেষ। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ফেলে দিতে হলো। এই আলুই আমাকে নিঃস্ব করে দিল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গঙ্গাচড়ার কুড়িয়ার মোড় এলাকার কৃষক মিজান মিয়া।

তিনি জানান, নিজের জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। লাভের আশায় আলু চাষ করলেও এখন সেই খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আলু ফেলে দেওয়ার সময় বুক ফেটে যাওয়ার মতো কষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুড়িয়ার মোড় এলাকায় রাস্তার ধারে, এমনকি বাঁশঝাড়েও স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে পচা আলু। শুধু মিজান মিয়াই নন প্রায় ২০০ কৃষক একই সংকটে পড়েছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, আগাম বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও ভালো দামের আশায় অনেকেই আলু বিক্রি না করে ঘরে মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারে দাম না বাড়া, হিমাগারে জায়গা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। ফলে সেই আলু পচে গিয়ে এখন বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন তারা।

কুড়িয়ার মোড় এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, হিমাগারে জায়গা পাওয়া যায় না, আর ভাড়া এত বেশি যে রাখা সম্ভব না। অনেক সময় আলুর দামের চেয়েও সংরক্ষণের খরচ বেশি পড়ে।

একই এলাকার কৃষক কাইয়ুম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক একই সমস্যায় পড়েছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছে এখন সেই ঋণ শোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় গঙ্গাচড়ার কৃষকেরা এখন চরম হতাশা ও লোকসানের চক্রে আটকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়েছে। যারা আগে আলু তুলেছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু দেরিতে তোলা আলু বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষণ সংকট ও আবহাওয়ার অস্থিরতাও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৮ টাকায় উৎপাদন ৫ টাকায় বিক্রি, ফেলে দেওয়া হচ্ছে আলু

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

‘হিমাগারে জায়গা সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে পড়ে উৎপাদিত আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম থাকায় তারা এখন চরম লোকসানের মুখে। এক কেজি আলু উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১৮ টাকা, আর পাইকাররা দেয় মাত্র ৫ টাকা। হিমাগারে রাখলেও খরচ বেশি তাই ঘরেই রেখেছিলাম। কিন্তু ৮০ বস্তা আলু পচে শেষ। শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ফেলে দিতে হলো। এই আলুই আমাকে নিঃস্ব করে দিল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গঙ্গাচড়ার কুড়িয়ার মোড় এলাকার কৃষক মিজান মিয়া।

তিনি জানান, নিজের জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন। লাভের আশায় আলু চাষ করলেও এখন সেই খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আলু ফেলে দেওয়ার সময় বুক ফেটে যাওয়ার মতো কষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুড়িয়ার মোড় এলাকায় রাস্তার ধারে, এমনকি বাঁশঝাড়েও স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে পচা আলু। শুধু মিজান মিয়াই নন প্রায় ২০০ কৃষক একই সংকটে পড়েছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, আগাম বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও ভালো দামের আশায় অনেকেই আলু বিক্রি না করে ঘরে মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারে দাম না বাড়া, হিমাগারে জায়গা না পাওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। ফলে সেই আলু পচে গিয়ে এখন বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন তারা।

কুড়িয়ার মোড় এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, হিমাগারে জায়গা পাওয়া যায় না, আর ভাড়া এত বেশি যে রাখা সম্ভব না। অনেক সময় আলুর দামের চেয়েও সংরক্ষণের খরচ বেশি পড়ে।

একই এলাকার কৃষক কাইয়ুম বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক একই সমস্যায় পড়েছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছে এখন সেই ঋণ শোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি, সংরক্ষণ সংকট এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় গঙ্গাচড়ার কৃষকেরা এখন চরম হতাশা ও লোকসানের চক্রে আটকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়েছে। যারা আগে আলু তুলেছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু দেরিতে তোলা আলু বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষণ সংকট ও আবহাওয়ার অস্থিরতাও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।