ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনাল

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তখন চলছে ইনজুরি টাইমের খেলা। হুট করে নামল বৃষ্টি। গ্যালারির সব দর্শক তখন ঠায় দাঁড়িয়ে। এর মাঝেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন রেফারি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বৃষ্টির সঙ্গে যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল হাজারো দর্শকের আনন্দাশ্রু।

আর তা হবেই না কেন! দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর যে আবার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে আর্সেনাল। ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর আবার চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার লড়াইয়ে নামবে মিকেল আরতেতার শিষ্যরা।

নিজেদের ঘরের মাঠে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। সেমি-ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।

প্রথমার্ধের বিরতির বাঁশি বাজার মিনিটখানেক আগে স্বাগতিকদের দর্শকদের আনন্দে ভাসানো গোলটি করেন ২৪ বছর বয়সী সাকা। সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে জয়সূচক।

মাঠের খেলায় এমনিতে প্রায় সমান-সমানই ছিল দুই দল। প্রায় ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ১৩টি শট করে আর্সেনাল। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে ২টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে আতলেতিকো।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে খেলতে থাকে আর্সেনাল। দুই পাশ দিয়ে তারা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে বেশ কয়েকবার। কিন্তু কখনও সে অর্থে জোরাল আক্রমণ করতে পারছিল না তারা।

বারবার কাছাকাছি গিয়ে খেই হারাচ্ছিলেন বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস, এবেরেচি এজেরা। একই দশা ছিল আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেজ, আন্তোনিও গ্রিজম্যানদেরও। প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ে বলার মতো তেমন কোনো আক্রমণই করতে পারেনি আতলেতিকো।

মনে হচ্ছিল, গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাবে দুই দল। তবে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে চমৎকার আক্রমণের পর বাম পাশ থেকে ডান পায়ের জোরাল শট নেন লেয়ান্দ্রো ট্রসার্ড। প্রথম দফায় সেটি ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক।

তবে ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে যান সাকা। বাম পায়ের আলতো টোকায় বাকি কাজ সহজেই সারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। আতলেতিকোর ফুটবলাররা অফসাইডের মৃদু আবেদন করলেও তা ধোপে টেকেনি। স্বাগতিক দর্শকদের নিয়ে উল্লাসে মাতে আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলে আতলেতিকো। প্রথম মিনিটেই হেডে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেন আদেমালো লুকমান। পরে ৫৬ মিনিটে ডি-বক্সের ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন গ্রিজমান। যা ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

সেটিই ছিল ম্যাচে আতলেতিকোর প্রথম অন টার্গেট শট।

মিনিট দশেক পর বড় সুযোগ পায় আর্সেনাল। আচমকা পাল্টা আক্রমণে বাম পাশ দিয়ে বল পেয়ে যান বদলি হিসেবে নামা পিয়েরো হিকাপি। ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস দেন তিনি। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ভিক্টর গিয়োকেরেসের শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

গোলের খোঁজে মরিয়া ডিয়েগো সিমিওনে ৬৬ মিনিটের সময় দুই ফরোয়ার্ড গ্রিজমান ও আলভারেজকে একসঙ্গে তুলে নেন। তাদের বদলি হিসেবে নামেন থিয়াগো আলমাদা ও অ্যালেক্স বায়েনা। তবে বদলি দুজনের কেউই তেমন ছাপ রাখতে পারেননি।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে আলেসান্দ্রো সরলথের পাস থেকে বাম পায়ের শট নেন মার্কোস লরেন্তে। ডান কোনা থেকে সেটি ফিরিয়ে দেন ডেভিড রায়া। পরের মিনিটে অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায় আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবার হেডার।

৮৯ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটের চেষ্টা করেন অ্যালেক্স বায়েনা। বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায় বল। এরপর ইনজুরি টাইমে আর্সেনালের সময়ক্ষেপণের চেষ্টায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। তবে সেটি ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্য সেমি-ফাইনালে দ্বিতীয় লেগে বুধবার রাতে লড়বে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। পরে ফাইনাল ম্যাচে শিরোপার লড়াইটি হবে আগামী ৩০ মে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনাল

আপডেট সময় : ০১:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তখন চলছে ইনজুরি টাইমের খেলা। হুট করে নামল বৃষ্টি। গ্যালারির সব দর্শক তখন ঠায় দাঁড়িয়ে। এর মাঝেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন রেফারি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বৃষ্টির সঙ্গে যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল হাজারো দর্শকের আনন্দাশ্রু।

আর তা হবেই না কেন! দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর যে আবার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে আর্সেনাল। ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর আবার চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার লড়াইয়ে নামবে মিকেল আরতেতার শিষ্যরা।

নিজেদের ঘরের মাঠে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। সেমি-ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।

প্রথমার্ধের বিরতির বাঁশি বাজার মিনিটখানেক আগে স্বাগতিকদের দর্শকদের আনন্দে ভাসানো গোলটি করেন ২৪ বছর বয়সী সাকা। সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে জয়সূচক।

মাঠের খেলায় এমনিতে প্রায় সমান-সমানই ছিল দুই দল। প্রায় ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ১৩টি শট করে আর্সেনাল। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে ২টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে আতলেতিকো।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে খেলতে থাকে আর্সেনাল। দুই পাশ দিয়ে তারা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে বেশ কয়েকবার। কিন্তু কখনও সে অর্থে জোরাল আক্রমণ করতে পারছিল না তারা।

বারবার কাছাকাছি গিয়ে খেই হারাচ্ছিলেন বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস, এবেরেচি এজেরা। একই দশা ছিল আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেজ, আন্তোনিও গ্রিজম্যানদেরও। প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ে বলার মতো তেমন কোনো আক্রমণই করতে পারেনি আতলেতিকো।

মনে হচ্ছিল, গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাবে দুই দল। তবে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে চমৎকার আক্রমণের পর বাম পাশ থেকে ডান পায়ের জোরাল শট নেন লেয়ান্দ্রো ট্রসার্ড। প্রথম দফায় সেটি ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক।

তবে ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে যান সাকা। বাম পায়ের আলতো টোকায় বাকি কাজ সহজেই সারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। আতলেতিকোর ফুটবলাররা অফসাইডের মৃদু আবেদন করলেও তা ধোপে টেকেনি। স্বাগতিক দর্শকদের নিয়ে উল্লাসে মাতে আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলে আতলেতিকো। প্রথম মিনিটেই হেডে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেন আদেমালো লুকমান। পরে ৫৬ মিনিটে ডি-বক্সের ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন গ্রিজমান। যা ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

সেটিই ছিল ম্যাচে আতলেতিকোর প্রথম অন টার্গেট শট।

মিনিট দশেক পর বড় সুযোগ পায় আর্সেনাল। আচমকা পাল্টা আক্রমণে বাম পাশ দিয়ে বল পেয়ে যান বদলি হিসেবে নামা পিয়েরো হিকাপি। ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস দেন তিনি। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ভিক্টর গিয়োকেরেসের শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

গোলের খোঁজে মরিয়া ডিয়েগো সিমিওনে ৬৬ মিনিটের সময় দুই ফরোয়ার্ড গ্রিজমান ও আলভারেজকে একসঙ্গে তুলে নেন। তাদের বদলি হিসেবে নামেন থিয়াগো আলমাদা ও অ্যালেক্স বায়েনা। তবে বদলি দুজনের কেউই তেমন ছাপ রাখতে পারেননি।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে আলেসান্দ্রো সরলথের পাস থেকে বাম পায়ের শট নেন মার্কোস লরেন্তে। ডান কোনা থেকে সেটি ফিরিয়ে দেন ডেভিড রায়া। পরের মিনিটে অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায় আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবার হেডার।

৮৯ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটের চেষ্টা করেন অ্যালেক্স বায়েনা। বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায় বল। এরপর ইনজুরি টাইমে আর্সেনালের সময়ক্ষেপণের চেষ্টায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। তবে সেটি ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্য সেমি-ফাইনালে দ্বিতীয় লেগে বুধবার রাতে লড়বে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। পরে ফাইনাল ম্যাচে শিরোপার লড়াইটি হবে আগামী ৩০ মে।