ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমতে শুরু করেছে সবজির দাম, মাছের দামে আগুন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কমতে শুরু করে সবজির দাম। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায়, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ৪০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। তবে চওড়া মাছ-মাংসের বাজার। তবে ইলিশ মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম সেই আগের মতোই চড়া।

শীত আসন্ন। এরইমধ্যে সবজিতে সেজে উঠছে কাঁচাবাজার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়তি রাজধানীর বাজারেগুলো।

বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা, বরবটি ও করলা ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৫০–৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আগে যে সবজিগুলোর দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় ছিল, এখন তা ৪০ থেকে ৬০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫–১০ টাকা কমে আমদানিকৃত ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়। চিনির দামও কিছুটা কমে এসেছে— এখন প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আলম সরদার। তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি ছিল। আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ঠিকভাবে সবজি কিনতে পারছিল না অতিরিক্ত দামের কারণে। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। সেই হিসেবে আজও সবজির দাম তুলনামূলক কম।

বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি না থাকায় সবজির দাম কমেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। এদিকে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটায় স্বস্তিতে সবজি কিনছেন ক্রেতারা।

সবজির দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও। ফার্মের ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে এখন বড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। তবে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই ২৮০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে দাম কমলেও চওড়া মসলা ও মুরগির দাম। গেল সপ্তাহের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। ক্রেতারা বলছেন, এসবের দাম কমলে কেনাকাটা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগি সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রেতা ফরিদ বলেন, এ সপ্তাহে দাম কমেছে মুরগির, সাপ্লাই ভালো ছিল।

বাজারে আগত ক্রেতা মোস্তফা জামান বলেন, অন্যান্য মুরগির দাম কমলেও শেষপর্যন্ত ব্রয়লারেই ভরসা রাখতে হয়। বাকি মুরগির দাম কমলেও সেটা তো সামর্থ্যের ভেতর আসেনি।

আরেক ক্রেতা কাজী আসাদ বলেন, মাসের শেষে আপাতত ব্রয়লার কেনা ছাড়া উপায় নেই। অন্যান্য মুরগির দাম কমলেও তা নাগালের মধ্যে নেই এখনও।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দেখা গেছে, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ এখনো বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়, আর এক কেজির ইলিশের দাম দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজারের মতো।

বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর শুরু থেকেই রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম চড়া। সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কম। ক্রেতাদের মতে, ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কমতে শুরু করেছে সবজির দাম, মাছের দামে আগুন

আপডেট সময় : ০৩:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কমতে শুরু করে সবজির দাম। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায়, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ৪০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। তবে চওড়া মাছ-মাংসের বাজার। তবে ইলিশ মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম সেই আগের মতোই চড়া।

শীত আসন্ন। এরইমধ্যে সবজিতে সেজে উঠছে কাঁচাবাজার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়তি রাজধানীর বাজারেগুলো।

বর্তমানে প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা, বরবটি ও করলা ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৫০–৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আগে যে সবজিগুলোর দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় ছিল, এখন তা ৪০ থেকে ৬০ টাকার ঘরে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫–১০ টাকা কমে আমদানিকৃত ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায়। চিনির দামও কিছুটা কমে এসেছে— এখন প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আলম সরদার। তিনি বলেন, গত চার মাস ধরে সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি ছিল। আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ঠিকভাবে সবজি কিনতে পারছিল না অতিরিক্ত দামের কারণে। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। সেই হিসেবে আজও সবজির দাম তুলনামূলক কম।

বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি না থাকায় সবজির দাম কমেছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। এদিকে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটায় স্বস্তিতে সবজি কিনছেন ক্রেতারা।

সবজির দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও। ফার্মের ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমে এখন বড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। তবে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই ২৮০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে দাম কমলেও চওড়া মসলা ও মুরগির দাম। গেল সপ্তাহের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। ক্রেতারা বলছেন, এসবের দাম কমলে কেনাকাটা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মুরগি সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। বিক্রেতা ফরিদ বলেন, এ সপ্তাহে দাম কমেছে মুরগির, সাপ্লাই ভালো ছিল।

বাজারে আগত ক্রেতা মোস্তফা জামান বলেন, অন্যান্য মুরগির দাম কমলেও শেষপর্যন্ত ব্রয়লারেই ভরসা রাখতে হয়। বাকি মুরগির দাম কমলেও সেটা তো সামর্থ্যের ভেতর আসেনি।

আরেক ক্রেতা কাজী আসাদ বলেন, মাসের শেষে আপাতত ব্রয়লার কেনা ছাড়া উপায় নেই। অন্যান্য মুরগির দাম কমলেও তা নাগালের মধ্যে নেই এখনও।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দেখা গেছে, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ এখনো বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়, আর এক কেজির ইলিশের দাম দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজারের মতো।

বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর শুরু থেকেই রাজধানীর বাজারে ইলিশের দাম চড়া। সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কম। ক্রেতাদের মতে, ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে।