ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনিস আলমগীর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন সাংবাদিক আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মুনিরুজ্জামান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি আনিস আলমগীর এক মাস পূর্বে বেসরকারি টিভির এক টক শোতে মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতারা সরকারকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। আসামি মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ বছরের ২৬ নভেম্বর লকারের লকার উদ্ধারের ঘটনায় কটাক্ষ করে সরকারবিরোধী পোস্ট দেন। তিনি বলেন, একেবারে তেলেসমাতি কারবার বলে। আসামি ইমতুরা তিশ ইমতিয়াজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লকার উদ্ধারকে ‘এটাইসাইন্স’ বলে কটাক্ষ করেন।

এ ছাড়া এই চার আসামিসহ অন্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে অন্যদের বিভিন্ন সময়ে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল হতে বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক পোস্ট ও বক্তব্য দিয়ে দেশের জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, অন্য ব্যক্তিকে হত্যার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা এবং অন্য ব্যক্তিকে হত্যা-গুরুতর জখম করার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করার জন্য প্ররোচিত করে। বাদী ঘটনার বিষয়ে তার পরিচিতজনদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও তাদের অনলাইনে বিভিন্ন মন্তব্যের লিংক সংগ্রহ করে ঘটনার বিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি আলমগীরকে ডিবি লালবাগ বিভাগ ধানমণ্ডি এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে। সময় স্বল্পতার কারণে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।

আসামির সহযোগী অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ঘটনায় আরো কোনো আসামি জড়িত আছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে তার মামলার রিমান্ড শুনানি চলার সময় আনিস আলমগীরের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। এসময় তাকে বারবার চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

কাঠগড়ায় হাজিরের পর তার পক্ষের আইনজীবীরা তাকে ঘিরে ধরেন। কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেন আনিস আলমগীর, এরপর অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বারবার হাত দিয়ে চোখের পানি মোছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনিস আলমগীর

আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন সাংবাদিক আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মুনিরুজ্জামান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামি আনিস আলমগীর এক মাস পূর্বে বেসরকারি টিভির এক টক শোতে মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতারা সরকারকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। আসামি মেহের আফরোজ শাওন তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ বছরের ২৬ নভেম্বর লকারের লকার উদ্ধারের ঘটনায় কটাক্ষ করে সরকারবিরোধী পোস্ট দেন। তিনি বলেন, একেবারে তেলেসমাতি কারবার বলে। আসামি ইমতুরা তিশ ইমতিয়াজ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লকার উদ্ধারকে ‘এটাইসাইন্স’ বলে কটাক্ষ করেন।

এ ছাড়া এই চার আসামিসহ অন্য আসামি পরস্পর যোগসাজশে অন্যদের বিভিন্ন সময়ে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল হতে বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক পোস্ট ও বক্তব্য দিয়ে দেশের জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, অন্য ব্যক্তিকে হত্যার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা এবং অন্য ব্যক্তিকে হত্যা-গুরুতর জখম করার ষড়যন্ত্র ও সহায়তা করার জন্য প্ররোচিত করে। বাদী ঘটনার বিষয়ে তার পরিচিতজনদের সাথে আলাপ-আলোচনা ও তাদের অনলাইনে বিভিন্ন মন্তব্যের লিংক সংগ্রহ করে ঘটনার বিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি আলমগীরকে ডিবি লালবাগ বিভাগ ধানমণ্ডি এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে। সময় স্বল্পতার কারণে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।

আসামির সহযোগী অন্যান্য পলাতক আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ঘটনায় আরো কোনো আসামি জড়িত আছে কি না, তা জানার জন্য আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে তার মামলার রিমান্ড শুনানি চলার সময় আনিস আলমগীরের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। এসময় তাকে বারবার চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

কাঠগড়ায় হাজিরের পর তার পক্ষের আইনজীবীরা তাকে ঘিরে ধরেন। কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেন আনিস আলমগীর, এরপর অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বারবার হাত দিয়ে চোখের পানি মোছেন তিনি।