ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের তরুণ ভোটার: নির্বাচনের গেম চেঞ্জার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে প্রজন্মের হাত ধরে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথরচাপা থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে একটি জাতি, একটি মানচিত্র বা লাল-সবুজের পতাকা—দীর্ঘ দেড় দশক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত সেই প্রজন্ম এবার মুখিয়ে আছে নিজের প্রথম ভোট দিতে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তরুণ ভোটাররা। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এই প্রজন্মের প্রথম ভোট কোন প্রতীকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ছাত্রসংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা, রাজনৈতিক কৌশল এবং তরুণদের কাছে পৌঁছানো বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

জাতীয় নির্বাচনে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি। যার বড় একটি অংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বিশাল ভোটব্যাংক কার বাক্সে যাবে—তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনগুলো মাঠে কতটা সক্রিয় ও কৌশলী ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।

এরমধ্যে ৩০০ আসনেই ধানের শীষের প্রচারণায় কমিটি গঠন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল । তরুণদের প্রথম ভোট ধানের শীষে আনতে বিএনপির ইশতেহারকে সামনে রেখে মাঠে নামছে সংগঠনটি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জানান, বিএনপিকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে তারা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ‘তরুণদের জন্য বিএনপির ইশতেহারে কী থাকবে, দেশ গড়ার পরিকল্পনাতে কী থাকছে, সে বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবো।’

অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির । ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে তরুণদের সমর্থন আদায়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে সংগঠনটি। তবে ভোটের দিন গণনা শেষে তবেই নেতাকর্মীরা কেন্দ্র ছাড়বেন বলে জানান শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন রেসপনসিবিলিটি হচ্ছে এই অনেস্ট মানুষগুলোকে জাতীয় নির্বাচনে জয়যুক্ত করে সংসদের নিয়ে যাওয়া। ভোট দিয়ে চলে আসবে না, বরং ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেবে। একেবারে ভোট গণনা করে এরপর তারা ঘরে ফিরবে।’

এছাড়া নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনও।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘আমরা ১০ দলীয় জোটের পক্ষে কাজ করছি, আমাদের সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে। দবে আমাদের এ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের আরও স্ট্রং টিমের মাধ্যমে এবং জরিপের মধ্য দিয়ে আমরা ছাত্রদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি, ইনশা আল্লাহ।’

আর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থন দিচ্ছে নয় দলীয় বাম জোট—গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টকে। তবে জুলাই সনদে জনআকাঙ্খার যথাযথ প্রতিফলন না থাকার অভিযোগ তুলে সংগঠনটি মনে করে, গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়া তাদের জন্য উপযুক্ত নয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ‘জনগণের লড়াইয়ে সঙ্গে, জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই জুলাই গণভোটের পক্ষে থাকা আসলে আমরা যথোপযুক্ত মনে করছি না। কিন্তু আমরা এখনো কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেইনি , আমরা হ্যাঁ বা না ভোটের পক্ষে থাকবো কি না। ’

সব মিলিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে তরুণ ভোটাররাই এখন সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক শক্তি। শেষ পর্যন্ত যারাই তরুণদের মন জিততে পারবে তাদের দিকেই ভারী হবে জয়ের পাল্লা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দেশের তরুণ ভোটার: নির্বাচনের গেম চেঞ্জার

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

যে প্রজন্মের হাত ধরে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের জগদ্দল পাথরচাপা থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে একটি জাতি, একটি মানচিত্র বা লাল-সবুজের পতাকা—দীর্ঘ দেড় দশক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত সেই প্রজন্ম এবার মুখিয়ে আছে নিজের প্রথম ভোট দিতে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তরুণ ভোটাররা। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত এই প্রজন্মের প্রথম ভোট কোন প্রতীকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ছাত্রসংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা, রাজনৈতিক কৌশল এবং তরুণদের কাছে পৌঁছানো বার্তার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

জাতীয় নির্বাচনে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি। যার বড় একটি অংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বিশাল ভোটব্যাংক কার বাক্সে যাবে—তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনগুলো মাঠে কতটা সক্রিয় ও কৌশলী ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।

এরমধ্যে ৩০০ আসনেই ধানের শীষের প্রচারণায় কমিটি গঠন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল । তরুণদের প্রথম ভোট ধানের শীষে আনতে বিএনপির ইশতেহারকে সামনে রেখে মাঠে নামছে সংগঠনটি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জানান, বিএনপিকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে তারা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ‘তরুণদের জন্য বিএনপির ইশতেহারে কী থাকবে, দেশ গড়ার পরিকল্পনাতে কী থাকছে, সে বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবো।’

অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির । ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে তরুণদের সমর্থন আদায়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে সংগঠনটি। তবে ভোটের দিন গণনা শেষে তবেই নেতাকর্মীরা কেন্দ্র ছাড়বেন বলে জানান শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন রেসপনসিবিলিটি হচ্ছে এই অনেস্ট মানুষগুলোকে জাতীয় নির্বাচনে জয়যুক্ত করে সংসদের নিয়ে যাওয়া। ভোট দিয়ে চলে আসবে না, বরং ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেবে। একেবারে ভোট গণনা করে এরপর তারা ঘরে ফিরবে।’

এছাড়া নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনও।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘আমরা ১০ দলীয় জোটের পক্ষে কাজ করছি, আমাদের সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে। দবে আমাদের এ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য।’

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের আরও স্ট্রং টিমের মাধ্যমে এবং জরিপের মধ্য দিয়ে আমরা ছাত্রদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি, ইনশা আল্লাহ।’

আর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থন দিচ্ছে নয় দলীয় বাম জোট—গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টকে। তবে জুলাই সনদে জনআকাঙ্খার যথাযথ প্রতিফলন না থাকার অভিযোগ তুলে সংগঠনটি মনে করে, গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়া তাদের জন্য উপযুক্ত নয়।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, ‘জনগণের লড়াইয়ে সঙ্গে, জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই জুলাই গণভোটের পক্ষে থাকা আসলে আমরা যথোপযুক্ত মনে করছি না। কিন্তু আমরা এখনো কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেইনি , আমরা হ্যাঁ বা না ভোটের পক্ষে থাকবো কি না। ’

সব মিলিয়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে তরুণ ভোটাররাই এখন সবচেয়ে বড় নির্ণায়ক শক্তি। শেষ পর্যন্ত যারাই তরুণদের মন জিততে পারবে তাদের দিকেই ভারী হবে জয়ের পাল্লা।