ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। তাই ভোটের দিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে সবাইকে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বক্স পাহারা দিতে হবে এবং যে কোনো ধরনের কারচুপির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিম মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে যারা গুম, খুনে শিকার ও আহত হয়েছে তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এক পক্ষ চলে গেছে আরেক পক্ষ আছে। এজন্য ব্যালটবাক্স পাহারা দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট শুরু হলেই ভোট দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়নি। আমরা গ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদ পথেঘাটে হাটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। ঢাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানে মেগা দুর্নীতি।’
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ভালো রাখলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য শহিদ জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করে দিবো। দেশের সব কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে পর্যায়ক্রমে। যা দিয়ে ফসলের যাবতীয় বীজ-সার পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো। যাতে তার অর্থনীতি ভিত্তি শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক ক্ষতিগ্রস্ত মোকাবিলা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের খরচ কমাতে ফসল ঢাকায় নিতে রেল ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে এবং ট্রেনে চড়ে মানুষ সহজে ঢাকা যেতে পারে। তবে নির্বাচিত হলে পরের দিন থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করবে।’
নারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে একটা সুবিধা প্রদান করা হবে। গ্রাম-গঞ্জে মায়েরা ভালো চিকিৎসা সেবা পান না। এজন্য গ্রামে হেলথকেয়ার করা হবে। এতে ছোট অসুখ ঘরে বসে নিরাময় করতে পারে।’
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা করলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন না, খেলোয়াড়ও হতে পারে। এজন্য স্কুল থেকে খেলা শিখতে হবে এবং বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জনসহ অর্থনৈতিকভাবে আয় করতে পারে। সারা দেশে বহু শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আছে। যেহেতু এটা কৃষি অঞ্চল এবং কলকারখানা আছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করলে তাদের কর্মসংস্থান বাড়বে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে তারা দেশে আসতে চাই। সেখানে আইটি অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারেন।’
জনগণের বিভিন্ন দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতি মাসে সম্মানি প্রদান করা হবে। সরকার গঠন করা হলে দাবীগুলো আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করা হবে। আর এ লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।’
এসময় নওগাঁবাসীর পক্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, শিশু হাসপাতাল, আত্রাই নদীর ওপর সেতু, একটি রেললাইন, কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার ও জনবল বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মানসহ বেশকিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়।
এসময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মীয় স্বজন ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।























জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী