ইসরায়েলের পাশে আছে ভারত: মোদি
- আপডেট সময় : ০১:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছেন, যা কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রথম। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তেল আবিবে পৌঁছে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেন। এই ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার সঙ্গে ভারতের ২৬/১১-র মুম্বাই হামলার তুলনা টেনে ইসরায়েলের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ভারত ইসরায়েলের কষ্ট অনুভব করে এবং তাদের শোক ভাগ করে নেয়। এর পাশাপাশি, দুই ভূখণ্ডের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা তুলে ধরে তিনি স্মরণ করেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কথা। সে সময় এই অঞ্চলে চার হাজারের বেশি ভারতীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাইফার অশ্বারোহী আক্রমণ সামরিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মোদির আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিন্ধু সভ্যতা ও জর্ডান উপত্যকার প্রাচীন সভ্যতার মিল তুলে ধরে দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা জানান। ২০১৭ সালে মোদির প্রথম ইসরায়েল সফরের স্মৃতিচারণ করে তিনি ভূমধ্যসাগরের তীরে খালি পায়ে হাঁটার কথা মজা করে উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহু বলেন, যদিও তারা পানির ওপর হাঁটেননি, তবে এরপর থেকে দুই দেশ বাণিজ্যে দ্বিগুণ, সহযোগিতায় তিনগুণ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ায় চারগুণ উন্নতি করার মতো অভূতপূর্ব কাজ করেছে যা তাদের জোটের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি তার ভাষণে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের ওপর জোর দেন, যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় দুই দেশের বাণিজ্য ছিল প্রায় ২০ কোটি সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার, যা ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিশাল লাফ দিয়ে ১০.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মোদির এবারের সফরে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হতে চলেছে, যেখানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা রয়েছে।























