ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে তাদের মেধা ও মননশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল জ্ঞানার্জন নয়, বরং মস্তিষ্কের গঠন ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায় উল্লেখ করে তিনি গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে নিহিত জ্ঞানের গভীরতা শরীর ও মনোজগতে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা কেবল কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অমর একুশে বইমেলাকে বাঙালির মেধা ও মননের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই মেলা আজ আমাদের মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের স্মারক। এ বছর দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে মেলা শুরু হলেও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিন্দুমাত্র কমেনি। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই থেকে বিমুখ করে তুলছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন গবেষণার উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, ইন্টারনেটের অতি আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উক্তি ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য এক প্রকার ব্যায়াম, যা মানুষকে বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী করে।

দেশে বই পড়ার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা। এই পরিসংখ্যান পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রত্যাশা করেন, অমর একুশে বইমেলা যেন কেবল একটি উৎসবে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে আরও বেশি বইপ্রেমী করে তোলে।

তিনি ৫২-র ভাষা শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলা একাডেমি ভাষা আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে অমর একুশে বইমেলাকে ‘আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বইমেলা যেন কেবল বই বেচাকেনার জায়গা না হয়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হয়, সেটিই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। মেলাটি কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তিনি লেখক ও প্রকাশকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিশেষে, নতুন প্রজন্মের হাতে বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে তিনি মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৫:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে তাদের মেধা ও মননশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল জ্ঞানার্জন নয়, বরং মস্তিষ্কের গঠন ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায় উল্লেখ করে তিনি গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে নিহিত জ্ঞানের গভীরতা শরীর ও মনোজগতে যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা কেবল কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অমর একুশে বইমেলাকে বাঙালির মেধা ও মননের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই মেলা আজ আমাদের মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের স্মারক। এ বছর দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে মেলা শুরু হলেও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিন্দুমাত্র কমেনি। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই থেকে বিমুখ করে তুলছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন গবেষণার উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, ইন্টারনেটের অতি আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। জার্মান দার্শনিক মারকুইস সিসেরোর উক্তি ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের জন্য এক প্রকার ব্যায়াম, যা মানুষকে বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী করে।

দেশে বই পড়ার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের একজন মানুষ বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা। এই পরিসংখ্যান পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রত্যাশা করেন, অমর একুশে বইমেলা যেন কেবল একটি উৎসবে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে আরও বেশি বইপ্রেমী করে তোলে।

তিনি ৫২-র ভাষা শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলা একাডেমি ভাষা আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে অমর একুশে বইমেলাকে ‘আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজন করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বইমেলা যেন কেবল বই বেচাকেনার জায়গা না হয়ে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হয়, সেটিই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। মেলাটি কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তিনি লেখক ও প্রকাশকদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিশেষে, নতুন প্রজন্মের হাতে বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে তিনি মাসব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।