ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেল-সড়ক-নৌপথে চাপ; ভাড়া নিয়ে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রার ষষ্ঠ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। ভোর থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের তেমন সংকট না থাকলেও, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী।

যাত্রীদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাস ছাড়তে দেরি হওয়া এবং শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনাও দেখা গেছে।

তবে বাসমালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছুটা সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে বলেও জানান তারা।

এদিকে, ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সড়কপথে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। বিভিন্ন টার্মিনাল ও মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, নির্বিঘ্নে ট্রেনে যাতায়াত করছেন তাঁরা। সকালের ট্রেনগুলো ছেড়েছে নির্দিষ্ট সময়ে।

ঈদের সরকারি ছুটি হওয়ায় ট্রেনে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। এর মধ্যে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ট্রেনের ছাদেও উঠছেন। তবে এ বিষয়ে কড়া নজর রাখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতুতেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মাওয়া টোল প্লাজায় যানবাহনের উপস্থিতি থাকলেও বড় ধরনের যানজট ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা স্বস্তিতে সেতু পার হচ্ছেন।

তেমনি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার অন্যতম যমুনা সেতুতেও বেড়েছে গাড়ির চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত) যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন পারাপার করেছে। মহাসড়কের কোথাও যানজট বা গাড়ির দীর্ঘসারির সৃষ্ট হয়নি। ফলে মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই এ মহাসড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

আজ বুধবার সকালেও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

এদিকে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও মহাসড়কের এলেঙ্গা পয়েন্টে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এ জায়গায় যানবাহনের জটলার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট তৈরি হয়নি।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে আট শতাধিক পুলিশ কাজ করছে। এর পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি উত্তরের পথে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবে।

অন্যদিকে, নৌপথেও ঈদ যাত্রায় স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যাত্রীরা লঞ্চে করে তুলনামূলক ঝামেলাবিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এ পথে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগও নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ১০০টির ও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে ঘাটে। ভাড়া নেওয়া হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত চেয়ে ১০ শতাংশ কম।

নিউজটি শেয়ার করুন

রেল-সড়ক-নৌপথে চাপ; ভাড়া নিয়ে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রার ষষ্ঠ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। ভোর থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের তেমন সংকট না থাকলেও, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী।

যাত্রীদের দাবি, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাস ছাড়তে দেরি হওয়া এবং শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনাও দেখা গেছে।

তবে বাসমালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছুটা সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে বলেও জানান তারা।

এদিকে, ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সড়কপথে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে। বিভিন্ন টার্মিনাল ও মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, নির্বিঘ্নে ট্রেনে যাতায়াত করছেন তাঁরা। সকালের ট্রেনগুলো ছেড়েছে নির্দিষ্ট সময়ে।

ঈদের সরকারি ছুটি হওয়ায় ট্রেনে বেড়েছে যাত্রীদের চাপ। এর মধ্যে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ট্রেনের ছাদেও উঠছেন। তবে এ বিষয়ে কড়া নজর রাখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তাঁরা।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতুতেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মাওয়া টোল প্লাজায় যানবাহনের উপস্থিতি থাকলেও বড় ধরনের যানজট ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা স্বস্তিতে সেতু পার হচ্ছেন।

তেমনি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার অন্যতম যমুনা সেতুতেও বেড়েছে গাড়ির চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত) যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ৯৪৩টি যানবাহন পারাপার করেছে। মহাসড়কের কোথাও যানজট বা গাড়ির দীর্ঘসারির সৃষ্ট হয়নি। ফলে মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই এ মহাসড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে।

আজ বুধবার সকালেও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি।

এদিকে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও মহাসড়কের এলেঙ্গা পয়েন্টে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এ জায়গায় যানবাহনের জটলার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট তৈরি হয়নি।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা পর্যায়ক্রমে আট শতাধিক পুলিশ কাজ করছে। এর পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি উত্তরের পথে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবে।

অন্যদিকে, নৌপথেও ঈদ যাত্রায় স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যাত্রীরা লঞ্চে করে তুলনামূলক ঝামেলাবিহীনভাবে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এ পথে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগও নেই বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ১০০টির ও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে ঘাটে। ভাড়া নেওয়া হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত চেয়ে ১০ শতাংশ কম।