হামের প্রকোপ: হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স সংকট, বাড়তি প্রস্তুতির তাগিদ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সম্প্রতি হামের প্রকোপ ভেস্তে দিয়েছে সব পরিকল্পনা। হঠাৎ রোগী বাড়ায় চিকিৎসক নার্স সংকটে হাসপাতালে ব্যহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুনের আগে কমবে না হামের প্রকোপ। এ অবস্থায় বাড়তি প্রস্তুতির তাগিদ তাদের।
তিন মাস বয়সের আয়ান। হামে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে। এ হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীই হাম জনিত তীব্র উপসর্গের।
গেল কয়েকদিনে হাসপাতালটিতে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০ এ। এতো রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম অবস্থা চিকিৎসক- নার্সদের। ১১ জন নার্সেই চলছে তিন শিফটের ডিউটি।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের হাই-ডিফাইন ইউনিট যেটা সেখানে ৫০ জন ভর্তি আছে এখনো। সাধারণত আমাদের একটু ক্রিটিকাল রোগীদের আমরা সেখানে রাখি। আর ওয়ার্ডে আমাদের এক্সটেন্ডেড ওয়ার্ডের মিলে প্রায় ১৫০ জন রোগী আছেন। টোটাল আমার এখন ভর্তিকৃত রোগী হচ্ছে ৪২০ জন।’
রোগী বাড়ায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান বলেন, ‘নার্সের ঘাটতি আছে। এটা তো আমাদের অধিদপ্তর দেখে না। এটার অধিদপ্তর আলাদা। ওরাও জানিয়েছে আমরাও জানিয়েছি। কালকে অফিস খুললে আমরা আবার দেখবো। ডাক্তার শর্ট আছে। আমরা ঢাকা মেডিকেল থেকে ডাক্তার নিয়ে এসেছি। আরও হয়তো নিয়ে আসবো।’
গেল দশ বছরে হয়নি হাম নিয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা, চলতি বছরই হাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার কেন এমন হলো-কোনো উৎস পাচ্ছেন না ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা।
বিএমইউর ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুনশি বলেন, ‘আগে যখন ভ্যাকসিন ছিলো না তখন মায়েদের বলা হতো যে ৫ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের সন্তানকে নিজের সন্তান ভেবো না। কারণ এ সন্তান হামে মারা যেতে পারে। সুতরাং হাম আগে থেকেই একটা প্রাণ সংহারি ভাইরাস। এবার যেহেতু আমাদের ভ্যাকসিন দেয়া ছিলো না, আমাদের প্রটেকশন ছিলো না তাই এটা প্রাণ সংহারি হয়ে ওঠেছে।’
আগামী জুন পর্যন্ত এর প্রকোপ থেকে যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এ অবস্থায় হাসপাতালে বাড়তি প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ তাদের।





















রাঙামাটিতে সাংগ্রাই জলকেলিতে মাতলেন মারমা তরুণ-তরুণীরা