ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং ২৮ এপ্রিল, উৎপাদন শুরু আগস্টে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার পর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট ৫২ জন বিশেষজ্ঞ জনবলের অনুমোদন প্রদান করে। যদিও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে গত ৭ এপ্রিলের নির্ধারিত লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বায়রা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে সব ধরনের নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সময় স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৫২ জন বিশেষজ্ঞ এবং রুশ অপারেটরদের যৌথ সমন্বয়ে কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বস্ত করতে ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রতি মাসে ১০–১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়তে থাকবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষ্যে প্রকল্প সাইটের নিকটবর্তী চরসাহাপুরে ২৩ এপ্রিল উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তিগত দিক ও আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এসময় প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা একটি বড় জাতীয় প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি। তিনি গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, তথ্যকেন্দ্র ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Nuclear Power in Bangladesh’ অনুসরণের পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং ২৮ এপ্রিল, উৎপাদন শুরু আগস্টে

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার পর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট ৫২ জন বিশেষজ্ঞ জনবলের অনুমোদন প্রদান করে। যদিও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে গত ৭ এপ্রিলের নির্ধারিত লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বায়রা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে সব ধরনের নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সময় স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৫২ জন বিশেষজ্ঞ এবং রুশ অপারেটরদের যৌথ সমন্বয়ে কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বস্ত করতে ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রতি মাসে ১০–১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়তে থাকবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস। এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষ্যে প্রকল্প সাইটের নিকটবর্তী চরসাহাপুরে ২৩ এপ্রিল উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তিগত দিক ও আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এসময় প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা একটি বড় জাতীয় প্রকল্পের সফলতার মূল চাবিকাঠি। তিনি গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, তথ্যকেন্দ্র ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Nuclear Power in Bangladesh’ অনুসরণের পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।