ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এটি দ্বিতীয় বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। আরাগচির এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সেরেনা হোটেলে যান, যেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এর আগে ১১ এপ্রিল এই ইসলামাবাদেই প্রথম দফা সংলাপে বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো স্থায়ী চুক্তি ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়েছিল।

এবারের দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য সংলাপে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিনিধি দলে পরিবর্তন এনেছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এবারের আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্বে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের অনুপস্থিতির কথা জানা গেছে, যার ফলে দুই দেশের শীর্ষ স্তরের পরিবর্তে পেশাদার কূটনীতিকদের মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরাগচির পাকিস্তান সফরের মধ্যেই কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। কাতার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে দোহা পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

তবে অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের চলমান পাকিস্তান সফরকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। সূত্র: প্রেস টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক

আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি ইসলামাবাদের নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এটি দ্বিতীয় বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। আরাগচির এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সেরেনা হোটেলে যান, যেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। এর আগে ১১ এপ্রিল এই ইসলামাবাদেই প্রথম দফা সংলাপে বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো স্থায়ী চুক্তি ছাড়াই সেই বৈঠক শেষ হয়েছিল।

এবারের দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য সংলাপে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিনিধি দলে পরিবর্তন এনেছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এবারের আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্বে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের অনুপস্থিতির কথা জানা গেছে, যার ফলে দুই দেশের শীর্ষ স্তরের পরিবর্তে পেশাদার কূটনীতিকদের মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরাগচির পাকিস্তান সফরের মধ্যেই কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এ বিষয়ে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। কাতার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে দোহা পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

তবে অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের চলমান পাকিস্তান সফরকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। সূত্র: প্রেস টিভি