ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাইবেলে বর্ণিত বংশধর দাবি করে ২৫০ ভারতীয় পৌঁছালেন ইসরায়েলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী বা লস্ট ট্রাইব-এর বংশধর হিসেবে পরিচিত ২৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক গত বৃহস্পতিবার তেল আবিব বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর থেকে আসা এই বনি মেনাশে সম্প্রদায়ের মানুষদের ইসরায়েলে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে।

উৎসবমুখর অভ্যর্থনা বিমানবন্দরে আগতদের স্বাগত জানাতে তৈরি করা হয়েছিল ইসরায়েলি পতাকার নীল-সাদা রঙের বেলুন তোরণ। কয়েক ডজন শুভাকাঙ্ক্ষী ঐতিহ্যবাহী হিব্রু গানের মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানান। গত নভেম্বর মাসে ইসরায়েল সরকার মণিপুর থেকে প্রায় ৪,৬০০ জন বনি মেনাশে সদস্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো দলের আগমন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বনি মেনাশে বা মনসার সন্তান হিসেবে পরিচিত এই সম্প্রদায়ের দাবি, তারা বাইবেলে উল্লিখিত ইসরায়েলের সেই বংশধরদের উত্তরসূরি, যাদের ৭২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যাসিরীয় বিজয়ীরা নির্বাসিত করেছিল। তাদের মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে তারা পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত এবং চীন হয়ে ভারতে পৌঁছান। উনবিংশ শতাব্দীতে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে তারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হলেও, খতনা করার মতো কিছু প্রাচীন ইহুদি প্রথা তারা আজও পালন করে চলেছেন।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ইসরায়েলে বসবাসকারী দাগান জোলাত বিমানবন্দরে এসেছিলেন তার এক ভাই বা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীকে স্বাগত জানাতে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি এএফপি-কে বলেন, ভারতে থাকার সময় আমরা ওই গ্রামে মাত্র কয়েকজন ইহুদি ছিলাম। নয় বছর পর আজ ওর সাথে দেখা হলো।

ইহুদিদের শেকড় সন্ধানী সংস্থা শাভেই ইসরায়েল-এর তথ্যমতে, ১৯৯০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ বনি মেনাশে ইসরায়েলে অভিবাসী হয়েছেন। এখনও প্রায় ৭,০০০ সদস্য ভারতে রয়েছেন। ইসরায়েলের অভিবাসন মন্ত্রী অফির সোফার একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, প্রতি বছর অন্তত ১,২০০ করে সদস্যকে এখানে নিয়ে আসা হবে।

ইসরায়েল সরকারের অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ২৫০ জন নতুন সদস্যকে উত্তর ইসরায়েলে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। তবে দেশটির পূর্ণ নাগরিকত্ব পেতে হলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে হবে।

উল্লেখ্য যে, গত তিন বছর ধরে মণিপুরে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা জাতিগত সংঘর্ষে ২৫০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই অভিবাসন প্রক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সূত্র: এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

বাইবেলে বর্ণিত বংশধর দাবি করে ২৫০ ভারতীয় পৌঁছালেন ইসরায়েলে

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের হারিয়ে যাওয়া গোষ্ঠী বা লস্ট ট্রাইব-এর বংশধর হিসেবে পরিচিত ২৫০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক গত বৃহস্পতিবার তেল আবিব বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর থেকে আসা এই বনি মেনাশে সম্প্রদায়ের মানুষদের ইসরায়েলে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে।

উৎসবমুখর অভ্যর্থনা বিমানবন্দরে আগতদের স্বাগত জানাতে তৈরি করা হয়েছিল ইসরায়েলি পতাকার নীল-সাদা রঙের বেলুন তোরণ। কয়েক ডজন শুভাকাঙ্ক্ষী ঐতিহ্যবাহী হিব্রু গানের মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানান। গত নভেম্বর মাসে ইসরায়েল সরকার মণিপুর থেকে প্রায় ৪,৬০০ জন বনি মেনাশে সদস্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো দলের আগমন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বনি মেনাশে বা মনসার সন্তান হিসেবে পরিচিত এই সম্প্রদায়ের দাবি, তারা বাইবেলে উল্লিখিত ইসরায়েলের সেই বংশধরদের উত্তরসূরি, যাদের ৭২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যাসিরীয় বিজয়ীরা নির্বাসিত করেছিল। তাদের মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে তারা পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত এবং চীন হয়ে ভারতে পৌঁছান। উনবিংশ শতাব্দীতে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে তারা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হলেও, খতনা করার মতো কিছু প্রাচীন ইহুদি প্রথা তারা আজও পালন করে চলেছেন।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ইসরায়েলে বসবাসকারী দাগান জোলাত বিমানবন্দরে এসেছিলেন তার এক ভাই বা ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীকে স্বাগত জানাতে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি এএফপি-কে বলেন, ভারতে থাকার সময় আমরা ওই গ্রামে মাত্র কয়েকজন ইহুদি ছিলাম। নয় বছর পর আজ ওর সাথে দেখা হলো।

ইহুদিদের শেকড় সন্ধানী সংস্থা শাভেই ইসরায়েল-এর তথ্যমতে, ১৯৯০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ বনি মেনাশে ইসরায়েলে অভিবাসী হয়েছেন। এখনও প্রায় ৭,০০০ সদস্য ভারতে রয়েছেন। ইসরায়েলের অভিবাসন মন্ত্রী অফির সোফার একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, প্রতি বছর অন্তত ১,২০০ করে সদস্যকে এখানে নিয়ে আসা হবে।

ইসরায়েল সরকারের অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ২৫০ জন নতুন সদস্যকে উত্তর ইসরায়েলে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। তবে দেশটির পূর্ণ নাগরিকত্ব পেতে হলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে হবে।

উল্লেখ্য যে, গত তিন বছর ধরে মণিপুরে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা জাতিগত সংঘর্ষে ২৫০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই অভিবাসন প্রক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সূত্র: এনডিটিভি