নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের এক যুগ: এখনো শেষ হয়নি বিচারের অপেক্ষা
- আপডেট সময় : ০২:২১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। এ দিনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জনাকীর্ণ ব্যস্ততায় সাদা পোশাকে একদল লোক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে তুলে নিয়ে যায়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে তাঁদের নিথর দেহ। আজ সেই বীভৎস ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পূর্ণ হলো। এক যুগ পার হলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিচার পাওয়ার অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম শিকার ছিলেন গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর মৃত্যুর এক মাস পর জন্ম নেয় মেয়ে রোজা আক্তার জান্নাত। আজ ১২ বছরে পা রাখা রোজা কোনোদিন বাবার স্পর্শ পায়নি; তার কাছে বাবা মানে কেবল একটি ফ্রেমবন্দী ছবি। রোজার মা শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর জানান, মাদ্রাসায় অন্য শিশুরা যখন বাবার হাত ধরে আসে, তখন রোজা নীরবে চোখের জল ফেলে। সিটি করপোরেশনের চুক্তিভিত্তিক চাকরির সামান্য আয়ে কোনোমতে দিন কাটছে মা-মেয়ের, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর বিচার না পাওয়ায় তাদের মনে ক্ষোভ আর দীর্ঘশ্বাস রয়েই গেছে।
নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বিউটি জানান, দীর্ঘ সময় পর সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি শোক সামলে নিয়েছেন। তিনি স্মরণ করেন যে, সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমরা কেবল সেই আশাটুকু নিয়েই বেঁচে আছি।” অন্যদিকে, নিহত তাজুল ইসলামের বৃদ্ধ বাবা আবুল খায়েরের একমাত্র শেষ ইচ্ছা-মৃত্যুর আগে যেন তিনি ছেলের হত্যাকারীদের চূড়ান্ত শাস্তি দেখে যেতে পারেন।
২০১৪ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে এরপর থেকে মামলার গতি থমকে গেছে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বললেও আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে চূড়ান্ত রায়।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে প্রিয়জন হারানোর বেদনা বুকে চেপে রাখা সাতটি পরিবারের একটাই দাবি-শিগগিরই যেন আপিল বিভাগের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দোষীদের সাজা কার্যকর করা হয়।





















সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ