৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় মেসিকে বিক্রির প্রস্তাব পেয়েছিল বার্সা
- আপডেট সময় : ১১:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
কিছু জিনিসের কোনো আর্থিক মূল্য হয় না; লিওনেল মেসি তেমনই একজন ধ্রুবতারা। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তিকে কি শুধু টাকার অঙ্কে মাপা যায়? বার্সেলোনার সবুজ গালিচায় ‘এলএম টেন’ যখন বাঁ পায়ের জাদু দেখাতেন, পুরো স্টেডিয়ামের নিশ্বাস যেন থমকে যেত। ফুটবলের অমূল্য এই ‘রত্ন’ পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো ক্লাবে ‘বিক্রি’ হননি। সেই জাদুকরকে ছিনিয়ে নিতে একবার নাকি অঢেল অর্থ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব।
৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা—হ্যাঁ, এই অংকটিই খরচ করতে চেয়েছিল এক রহস্যময় ক্লাব লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়াতে। নেইমারের বিদায়ের পর বার্সেলোনা যখন দিশেহারা, তখন টাকার বস্তা নিয়ে কোনো এক ক্লাব মেসির জন্য এই অবিশ্বাস্য জাল বিছিয়েছিল। সাবেক বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে সেই অবিশ্বাস্য দিনগুলোর কথা। কে ছিল সেই রহস্যময় ক্লাব যারা রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিয়ে মেসিকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল?
‘কাদেনা সার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ তার সভাপতিত্বের সবচেয়ে উত্তাল সময়গুলোর একটি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০১৭ সালে নেইমারের প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি) চলে যাওয়ার সেই আকস্মিক ধাক্কার পর, ক্লাবটি বেশ সতর্ক ছিল যে তাদের আরেকজন সুপারস্টারকেও হয়তো ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। ন্যু ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কীভাবে মেসিকে স্পেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি বিশাল আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বার্তোমেউ।
কীভাবে এই গুঞ্জন প্রথম ছড়িয়েছিল তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘নেইমারের প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, একটি ক্লাব মেসির জন্য ৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি) প্রস্তুত করছে—যা ছিল মেসির রিলিজ ক্লজের সমান অঙ্ক।’ এই পরিমাণ অর্থ নেইমারের জন্য দেওয়া রেকর্ড ২২ কোটি ইউরোর প্রায় দ্বিগুণ ছিল, যা বাস্তবে রূপ নিলে ইউরোপীয় ফুটবলের পুরো দৃশ্যপটই আমূল বদলে যেত।
পেপ গার্দিওলার উপস্থিতির কারণে সেই সময় মেসির সঙ্গে বারবার ম্যানচেস্টার সিটির নাম জড়িয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, বার্তোমেউ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে ইংলিশ জায়ান্টদের হাত ছিল না। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিশাল অর্থের জোগান আসছিল কোনো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উৎস থেকে, যা এই রহস্যময় ক্লাবের পরিচয় নিয়ে কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বার্তোমেউ দাবি করেন, ‘একটি আরব দেশ থেকে বড় অংকের তহবিল ইউরোপের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।’ যখন তাকে এই দুঃসাহসী তহবিলের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করে বলেন, ‘এখন আর সেসবের গুরুত্ব নেই… ওটা অনেক পুরনো খবর; বহু বছর আগের কথা। ইংল্যান্ডে খুব কম ক্লাব আছে, কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত এমন ক্লাব খুব বেশি নেই, যারা এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা রাখে।’
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা মেসিকে হারানোর এই হুমকি বার্সেলোনাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল। বার্তোমেউ সেই সময়ের অভ্যন্তরীণ আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন কীভাবে মেসিকে কাতালুনিয়ায় ধরে রাখতে তারা তাঁর চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। এর ফলে যে চুক্তিটি হয়েছিল, তা ছিল ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল চুক্তি; যা প্রতিদ্বন্দ্বী যেকোনো ক্লাবের জন্য টক্কর দেওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল।
বার্তোমেউ ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা যা করেছিলাম তা হলো—লিওনেল মেসি এবং তাঁর বাবার সাথে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের রিলিজ ক্লজ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ক্লজটি ছিল ৪০ কোটি ইউরো যা আমরা বাড়িয়ে ৭০ কোটিতে নিয়ে যাই—এটি ছিল একটি বিশাল অংক। আর যদি আপনি রিলিজ ক্লজ বাড়ান, তবে খেলোয়াড়ের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়িয়ে দিতে হবে।’ এই পদক্ষেপটি কার্যত অন্য ক্লাবগুলোর মেসিকে পাওয়ার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত এটিই বার্সার ওপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল—যার ফলে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত ক্লাব থেকে ২০২১ সালে বিদায় নিতে হয় ইন্টার মায়ামি তারকাকে।
























জ্বালানি তেল নিয়ে বড় সুখবর