পুলিশের কেউ চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পুলিশ বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক দিকনির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে কোনো ধরনের দুর্নীতি প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখা হবে। বাহিনীর শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা হবে না এবং চেইন অব কমান্ড ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানটি কেবল মুখে নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। থানায় আসা কোনো সেবাগ্রহীতা যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি আচরণে রাষ্ট্রীয় সেবকের প্রতিফলন ঘটানোর নির্দেশ দেন তিনি।
পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তদন্তে স্বচ্ছতা আনতে ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত সাইবার অপরাধ, গুজব ও অপপ্রচার রোধে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কৌশলগতভাবে অপরাধ দমন ও তদন্ত কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বলপ্রয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার (রিঅ্যাক্টিভ) চেয়ে অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করার (প্রোঅ্যাক্টিভ) ওপর সরকার বেশি জোর দিচ্ছে বলে জানান সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই ‘প্রিভেন্টিভ’ পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে অপরাধ দমনে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং পাড়া-মহল্লায় অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়া, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে, বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিংকে কেবল অপরাধ দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।





















দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো ই-ঋণ, যেভাবে আবেদন করা যাবে