ডেঙ্গু রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখতে হবে। এসব রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেয়া হবে না; শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা (বেড) ফাঁকা রাখা হবে। এসব বেড ও চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সারা দেশে সমন্বিত কার্যক্রম চালানো হবে। হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড ও স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে মজুত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
ডেঙ্গুর টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হলেও এটি এখনো বিশ্বব্যাপী সর্বজনীনভাবে অনুমোদিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিষয়ে সরকার বিবেচনা করবে। তবে আপাতত দেশে ডেঙ্গু টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে যেন ডেঙ্গু সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় রাখা যায়। এজন্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ওষুধ ছিটানো এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ ভারত থেকে আমদানি করা হয় এবং পরীক্ষাগারে এর মান যাচাই করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে স্প্রে কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে ওষুধের সঙ্গে কেরোসিন মেশানো হয়। বিষয়টি সিটি করপোরেশন তদারকি করছে।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এবার সারা দেশে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কারও বাসার ছাদ বা আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন পাওয়া যায় এবং সেখানে মশার লার্ভার উপস্থিতি মেলে, তবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হবে।
এর পাশাপাশি মশার লার্ভা দ্রুত ধ্বংস করার জন্য বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন মজুত রাখার জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আগামী শনিবার থেকে তিন মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হবে। একই দিন ডেঙ্গুবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে একটি র্যালিরও আয়োজন করা হবে।
সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




















ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমলো ৫৫ টাকা