ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ফেব্রুয়ারিতেই নিহত ৪৪৭ জন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুধু এক মাসেই ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথ ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ জনে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৭ জন। আজ (শুক্রবার, ৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক পথে দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথের এসব দুর্ঘটনার খবর জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন মনিটরিং করে তৈরি করেছে সংগঠনটির ‘দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল’।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক এবং ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পরিচয় মিলেছে।

মাসের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক। এতে ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, সেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।

সফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে রোড সাইন বা বাতির অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি উন্নত বিশ্বের আদলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরির প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নিশ্চিত করা, সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া গণপরিবহনের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিটের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংগঠনটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ফেব্রুয়ারিতেই নিহত ৪৪৭ জন

আপডেট সময় : ০৪:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুধু এক মাসেই ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথ ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৭ জনে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৭ জন। আজ (শুক্রবার, ৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক পথে দুর্ঘটনার পাশাপাশি রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথের এসব দুর্ঘটনার খবর জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন মনিটরিং করে তৈরি করেছে সংগঠনটির ‘দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল’।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক এবং ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পরিচয় মিলেছে।

মাসের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক। এতে ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। বিভাগ ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, সেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।

সফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল, মহাসড়কে রোড সাইন বা বাতির অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি উন্নত বিশ্বের আদলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, দক্ষ চালক তৈরির প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নিশ্চিত করা, সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া গণপরিবহনের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিটের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সংগঠনটি।