ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৪ জনের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জামালপুর ও বরগুনায় ২ জন করে এবং রাজবাড়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও বগুড়ায় ১ জন করে মারা গেছেন।

পটুয়াখালী: জেলায় বজ্রাঘাতে পৃথক স্থানে চারজন নিহত হয়েছেন। সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জামালপুর: জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদী থেকে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মো. শামীম মিয়া (৩৭) নিহত হন। অন্যদিকে, সাপধরী ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণকাজ করার সময় বজ্রপাতের কবলে পড়ে মারা যান সাগর ইসলাম (১৮)।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা: আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক বজ্রাঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। আমতলীর পূজাখোলা গ্রামে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে কৃষক নুরজামাল (৫৪) প্রাণ হারান। একই সময়ে পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে আল-আমিন নামে এক জেলের মৃত্যু হয়।

পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাট : বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজবাড়ী: কোলের শিশু বাঁচলেও বজ্রাঘাতে মারা যান বাবা। সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সকালে শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন সুমন মণ্ডল (৩৫)। বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দ ও ধাক্কায় শিশুটি কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি।

বগুড়া: জেলার শিবগঞ্জে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে আকবর আলী সরদার (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রংপুর ও শরীয়তপুর: রংপুরের তারাগঞ্জে দুপুরে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে গিয়েছিল।

সারাদেশে হঠাৎ শুরু হওয়া এই কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে এমন প্রাণহানিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৪ জনের

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জামালপুর ও বরগুনায় ২ জন করে এবং রাজবাড়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, শরীয়তপুর ও বগুড়ায় ১ জন করে মারা গেছেন।

পটুয়াখালী: জেলায় বজ্রাঘাতে পৃথক স্থানে চারজন নিহত হয়েছেন। সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জামালপুর: জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদী থেকে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মো. শামীম মিয়া (৩৭) নিহত হন। অন্যদিকে, সাপধরী ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণকাজ করার সময় বজ্রপাতের কবলে পড়ে মারা যান সাগর ইসলাম (১৮)।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা: আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক বজ্রাঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। আমতলীর পূজাখোলা গ্রামে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে কৃষক নুরজামাল (৫৪) প্রাণ হারান। একই সময়ে পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে আল-আমিন নামে এক জেলের মৃত্যু হয়।

পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাট : বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজবাড়ী: কোলের শিশু বাঁচলেও বজ্রাঘাতে মারা যান বাবা। সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সকালে শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন সুমন মণ্ডল (৩৫)। বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দ ও ধাক্কায় শিশুটি কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি।

বগুড়া: জেলার শিবগঞ্জে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে আকবর আলী সরদার (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রংপুর ও শরীয়তপুর: রংপুরের তারাগঞ্জে দুপুরে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে গিয়েছিল।

সারাদেশে হঠাৎ শুরু হওয়া এই কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে এমন প্রাণহানিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।