ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে দেশের পাঁচটি জেলায় বন্যা হতে পারে। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় বন্যা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে। অন্য তিনটি জেলাতেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও বন্যার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, এই বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে আগামী ৪ মে পর্যন্ত থেমে থেমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে বর্তমানে দেশের অন্তত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো- ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু নদী বাদে বাকি তিনটিই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাশাপাশি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এই নদীগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

আপডেট সময় : ০২:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে দেশের পাঁচটি জেলায় বন্যা হতে পারে। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় বন্যা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে। অন্য তিনটি জেলাতেও নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এছাড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জেও বন্যার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, এই বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে আগামী ৪ মে পর্যন্ত থেমে থেমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে বর্তমানে দেশের অন্তত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো- ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু নদী বাদে বাকি তিনটিই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাশাপাশি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এই নদীগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।