চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভুমিকম্প
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির উত্তরাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্যমতে, সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে আন্তোফাগাস্তা অঞ্চলের কালামা শহরের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। শক্তিশালী এই কম্পনে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস নিশ্চিত করেছে, এই ভূমিকম্প থেকে উপকূলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান এবং নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে চিলি একটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। জরুরি ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৭০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ বা তার বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, গড়ে প্রতি দশকেই অন্তত একটি ৮ বা তদূর্ধ্ব মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখে পড়ে দেশটি।
চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ১৯৬০ সালে। ভালদিভিয়ায় আঘাত হানা ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট ১০ মিটার উঁচু সুনামির ঢেউ প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে জাপান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যাতে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
সাম্প্রতিক বড় দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। ‘২৭এফ’ নামে পরিচিত গভীর রাতের ওই কম্পন ও সুনামিতে মাউলে এবং বায়োবায়ো অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। পেরু থেকে কোস্টারিকা পর্যন্ত সুনামির ঢেউ পৌঁছালেও মূল ক্ষতি হয় চিলিতেই, যেখানে প্রাণ হারান ৫০০ জনের বেশি মানুষ এবং নিখোঁজ হন আরও প্রায় ৫০ জন।
তবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি ঘটেছিল ১৯৩৯ সালের ২৪ জানুয়ারি। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার ওই কম্পনে চিলান শহরের অর্ধেকের বেশি ভবন ধসে পড়ে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরকারি হিসাবে সেই দুর্যোগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ নিহত হন (কিছু পরিসংখ্যানে যা ৩০ হাজার), যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৫ হাজার ৬৮৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। সূত্র: আনাদোলু























ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র