ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ান-চীন উত্তেজনা: সংযত হওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে উস্কানিমূলক মহড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা না বাড়াতে চীনকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাইওয়ান প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ চীন। এমনিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য তাইপেকে দোষারোপ করছে বেইজিং। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনা হুমকি মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের।

২০২৫ সাল বিদায় নেয়ার ঠিক আগে তাইওয়ানের চারপাশে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। যেখানে একযোগে অংশ নিয়েছিলেন সেনা, নৌ, বিমান ও রকেট ইউনিট। ‘জাস্ট মিশন-টু-থাউজেন্ড টোয়েন্টি ফাইভ’ নামেরই সেই মহড়া ঘিরে নতুন বছরের শুরুতেই তাইপে-বেইজিং উত্তেজনার পারদ চরমে।

তাইওয়ানের লাই চিং-তে কর্তৃপক্ষ চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য বিদেশিদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করে উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বেইজিং। এ অবস্থায় যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ কঠোরভাবে মোকাবিলার হুমকিও দিয়েছে চীন। এমনকি স্বাধীন তাইওয়ান প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছে শি-জিনপিং প্রশাসন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, ‘তাইওয়ান চীনের অংশ। তাইওয়ান প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করার এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টাকারী যেকোনো বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে আমরা মুখোমুখি হবো। তাইওয়ান পুনর্মিলন নিশ্চিতে আমরা অপ্রতিরোধ্য। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য চীন দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে যাবে।’

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। এর অংশ হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা খাত জোরদারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, ‘চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে আগ্রাসন চালাতে পারে। এই সময়ে তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি-না তা অন্য বিষয়। তবে তা মোকাবিলায় আমাদের সর্বোত্তম প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই ২০২৬ সাল তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর। চীন তাইওয়ানের সাথে সমতা ও মর্যাদার সাথে আচরণ না করলে আমরাও তাদের মতো করেই তাদের মোকাবিলা করবো।’

চীনের আগ্রাসী ভাষা এবং তাইওয়ান অবরোধের অনুশীলন হিসেবে পরিচালিত মহড়া আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা না বাড়াতে বেইজিংকে সংযত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ঐতিহাসিক অস্ত্রচুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির চীনবিরোধী মন্তব্যের পর থেকে দ্বীপটি ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তাইওয়ান-চীন উত্তেজনা: সংযত হওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে উস্কানিমূলক মহড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা না বাড়াতে চীনকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাইওয়ান প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ চীন। এমনিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য তাইপেকে দোষারোপ করছে বেইজিং। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনা হুমকি মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের।

২০২৫ সাল বিদায় নেয়ার ঠিক আগে তাইওয়ানের চারপাশে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। যেখানে একযোগে অংশ নিয়েছিলেন সেনা, নৌ, বিমান ও রকেট ইউনিট। ‘জাস্ট মিশন-টু-থাউজেন্ড টোয়েন্টি ফাইভ’ নামেরই সেই মহড়া ঘিরে নতুন বছরের শুরুতেই তাইপে-বেইজিং উত্তেজনার পারদ চরমে।

তাইওয়ানের লাই চিং-তে কর্তৃপক্ষ চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য বিদেশিদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করে উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বেইজিং। এ অবস্থায় যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ কঠোরভাবে মোকাবিলার হুমকিও দিয়েছে চীন। এমনকি স্বাধীন তাইওয়ান প্রশ্নে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছে শি-জিনপিং প্রশাসন।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, ‘তাইওয়ান চীনের অংশ। তাইওয়ান প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করার এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টাকারী যেকোনো বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে আমরা মুখোমুখি হবো। তাইওয়ান পুনর্মিলন নিশ্চিতে আমরা অপ্রতিরোধ্য। জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য চীন দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে যাবে।’

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। এর অংশ হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা খাত জোরদারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেন, ‘চীন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে আগ্রাসন চালাতে পারে। এই সময়ে তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি-না তা অন্য বিষয়। তবে তা মোকাবিলায় আমাদের সর্বোত্তম প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই ২০২৬ সাল তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বছর। চীন তাইওয়ানের সাথে সমতা ও মর্যাদার সাথে আচরণ না করলে আমরাও তাদের মতো করেই তাদের মোকাবিলা করবো।’

চীনের আগ্রাসী ভাষা এবং তাইওয়ান অবরোধের অনুশীলন হিসেবে পরিচালিত মহড়া আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা না বাড়াতে বেইজিংকে সংযত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ঐতিহাসিক অস্ত্রচুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির চীনবিরোধী মন্তব্যের পর থেকে দ্বীপটি ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে।