ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে থাকা রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় আরও বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

হোটেলটিতে বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৪০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজনকে ভবন থেকে লাফিয়ে নামতেও দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে দিল্লির মালভিয়া নগরের ওই পাঁচতলা ভবনটির বেজমেন্টে অবস্থিত মিকাসা ইন হোটেলের রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। এক কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার, একটি কুইক রেসপন্স ভেহিকেল এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট পাঠানো হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৪০ জন অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন।

হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন।

হোটেলের রেস্তোরাঁয় কর্মরত শেফ কেশর সিং আগুন লাগার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার চেষ্টা করলে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, আগুন পুরো হোটেলে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার সহকারীকে জানাই যে হোটেলে আগুন লেগেছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি পুরো হোটেল আগুনে পুড়ছে। কোনোভাবে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এক্সে দেয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

মোদি আরও জানান, আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেয়া হবে। অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য শক্তি ও সাহস কামনা করছি।’

তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রেখা গুপ্তা বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অনেক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দিল্লি সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের সময়ে দিল্লি সরকার তাদের পাশে রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২১

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে থাকা রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় আরও বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

হোটেলটিতে বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৪০ জন অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজনকে ভবন থেকে লাফিয়ে নামতেও দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে দিল্লির মালভিয়া নগরের ওই পাঁচতলা ভবনটির বেজমেন্টে অবস্থিত মিকাসা ইন হোটেলের রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। এক কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার, একটি কুইক রেসপন্স ভেহিকেল এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট পাঠানো হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় ভবনটিতে প্রায় ৪০ জন অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন।

হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন।

হোটেলের রেস্তোরাঁয় কর্মরত শেফ কেশর সিং আগুন লাগার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার চেষ্টা করলে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, আগুন পুরো হোটেলে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার সহকারীকে জানাই যে হোটেলে আগুন লেগেছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি পুরো হোটেল আগুনে পুড়ছে। কোনোভাবে আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি।’

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। এক্সে দেয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

মোদি আরও জানান, আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেয়া হবে। অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এই প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য শক্তি ও সাহস কামনা করছি।’

তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রেখা গুপ্তা বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অনেক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দিল্লি সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের সময়ে দিল্লি সরকার তাদের পাশে রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।