ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নফাঁস, বদলি বানিজ্যে সিন্ডিকেডের পঞ্চ পান্ডব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অগাস্ট ২০২২ ২৫৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এর অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫১৩টি পদের নিয়োগ পরীক্ষা গত ১৩ মে ৬১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ৫১৩ টি পদের জন্য প্রথম ধাপে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় (এমসিকিউ) অংশ নেন ১ লাখ ৮৩ হাজার চাকরি প্রার্থী। পরীক্ষা চলাকালেই ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্নের ৭০টি উত্তর প্রবেশপত্রে লেখা থাকায় সুমন জমাদ্দার নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

প্রশ্ন পত্র ফাঁসের এঘটনায় পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এর প্রভাষক রাশেদুল ইসলাম ৩৪তম বিসিএ (সাধারণ শিক্ষা) কর্মকর্তা, মাউশির উচ্চমান সহকারী আহসান হাবিব, অফিস সহকারী নওশাদুল ইসলাম, খেপুপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) সাইফুল ইসলাম ও পরীক্ষার্থী সুমন জোয়াদ্দারসহ ০৫ জনকে গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুল হোতা ৩১তম বিসিএস এর মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদার মিল্টনের নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ইডেন কলেজের প্রধান সহকারী আব্দুল খালেক। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ওই পরীক্ষা বাতিল করে মাউশি।
নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় গত ২৫ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদার ওরফে মিল্টনকে আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদ সিদ্দিকীর আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

মিল্টন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি। মাউশির ওই নিয়োগ পরীক্ষার ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্র সমন্বয় করার দায়িত্বে ছিলেন মিল্টন এবং তার সহকারী ছিলেন মাউশি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উচ্চমান সহকারী মো: বেল্লাল হোসেন। ঘটনার পর বিল্লালকে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক পদে বদলি করা হয়ে। তবে পলাতক বিল্লালকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

মাউশির স্টোর-কিপার ও ক্যাশিয়ার পদের পরীক্ষার তারিখ ছিল ৪ জুন ২০২১। উক্ত পদের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি মাউশি মহাপরিচালক এর নজরে আসলে তা বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে উক্ত পদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় এবং মাউশির এক কর্মচারী দুদকে লিখিত ভাবে অবহিত করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেটের পঞ্চ পান্ডব বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সূত্রমতে, এই পঞ্চপান্ডব মাউশি থেকে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার মূল হোতা ছিলেন মিল্টন, কিন্তু তাদের অর্জিত পুরো অর্থই রয়েছে অন্য চারজনের ব্যাংক হিসাবে।

এই সিন্ডিকেট মাউশির ইএমআইএস সেলের পাসওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে এমপিও ভূক্তি, বিষয় পরিবর্তন করেন নতুন এমপিও, জম্ম তারিখ সংশোধন করে চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা বকেয়া প্রদান ও বদলি বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কথার বাইরে গেলে তাকে নানা ভাবে হয়রানি করা হয়।

মহাপরিচালকের দপ্তরে প্রভাবশালী ও সুচতুর পিএ প্রণয় বাড়ীয়া সব ম্যানেজ করেন। প্রণয় বাড়ীয়ার নওগাঁ শহরে পাঁচতলা বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসারের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: নাসির উদ্দিনের আবেদন নিস্পত্তি করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব বিষয়টি মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানালেও প্রণয় বাড়ীয়া গংদের প্রভাবে তার কোন তদন্ত হয়নি।

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মো: বশির হাওলাদার মাউশির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এই সিন্ডিকেট পাসওয়ার্ড হ্যাক করে সরকারের কোটি টাকা গচ্ছা দিচ্ছে বিনিময়ে শিক্ষকদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস, বদলি বানিজ্যে সিন্ডিকেডের পঞ্চ পান্ডব

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অগাস্ট ২০২২

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এর অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ৫১৩টি পদের নিয়োগ পরীক্ষা গত ১৩ মে ৬১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ৫১৩ টি পদের জন্য প্রথম ধাপে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় (এমসিকিউ) অংশ নেন ১ লাখ ৮৩ হাজার চাকরি প্রার্থী। পরীক্ষা চলাকালেই ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রশ্নের ৭০টি উত্তর প্রবেশপত্রে লেখা থাকায় সুমন জমাদ্দার নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

প্রশ্ন পত্র ফাঁসের এঘটনায় পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এর প্রভাষক রাশেদুল ইসলাম ৩৪তম বিসিএ (সাধারণ শিক্ষা) কর্মকর্তা, মাউশির উচ্চমান সহকারী আহসান হাবিব, অফিস সহকারী নওশাদুল ইসলাম, খেপুপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) সাইফুল ইসলাম ও পরীক্ষার্থী সুমন জোয়াদ্দারসহ ০৫ জনকে গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুল হোতা ৩১তম বিসিএস এর মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদার মিল্টনের নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন ইডেন কলেজের প্রধান সহকারী আব্দুল খালেক। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ওই পরীক্ষা বাতিল করে মাউশি।
নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় গত ২৫ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদার ওরফে মিল্টনকে আদালতে সোপর্দ করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। ঢাকার মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদ সিদ্দিকীর আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

মিল্টন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি। মাউশির ওই নিয়োগ পরীক্ষার ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্র সমন্বয় করার দায়িত্বে ছিলেন মিল্টন এবং তার সহকারী ছিলেন মাউশি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উচ্চমান সহকারী মো: বেল্লাল হোসেন। ঘটনার পর বিল্লালকে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক পদে বদলি করা হয়ে। তবে পলাতক বিল্লালকে এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

মাউশির স্টোর-কিপার ও ক্যাশিয়ার পদের পরীক্ষার তারিখ ছিল ৪ জুন ২০২১। উক্ত পদের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি মাউশি মহাপরিচালক এর নজরে আসলে তা বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে উক্ত পদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় এবং মাউশির এক কর্মচারী দুদকে লিখিত ভাবে অবহিত করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেটের পঞ্চ পান্ডব বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সূত্রমতে, এই পঞ্চপান্ডব মাউশি থেকে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার মূল হোতা ছিলেন মিল্টন, কিন্তু তাদের অর্জিত পুরো অর্থই রয়েছে অন্য চারজনের ব্যাংক হিসাবে।

এই সিন্ডিকেট মাউশির ইএমআইএস সেলের পাসওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে এমপিও ভূক্তি, বিষয় পরিবর্তন করেন নতুন এমপিও, জম্ম তারিখ সংশোধন করে চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা বকেয়া প্রদান ও বদলি বানিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কথার বাইরে গেলে তাকে নানা ভাবে হয়রানি করা হয়।

মহাপরিচালকের দপ্তরে প্রভাবশালী ও সুচতুর পিএ প্রণয় বাড়ীয়া সব ম্যানেজ করেন। প্রণয় বাড়ীয়ার নওগাঁ শহরে পাঁচতলা বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসারের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: নাসির উদ্দিনের আবেদন নিস্পত্তি করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার সুশান্ত কুমার দেব বিষয়টি মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানালেও প্রণয় বাড়ীয়া গংদের প্রভাবে তার কোন তদন্ত হয়নি।

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মো: বশির হাওলাদার মাউশির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এই সিন্ডিকেট পাসওয়ার্ড হ্যাক করে সরকারের কোটি টাকা গচ্ছা দিচ্ছে বিনিময়ে শিক্ষকদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে।