ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বড় ভুমিকা অটোরিকশার চার্জিং ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশের পাম্পগুলোতে এখন তেলের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। তেলের এই সংকটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিস-আদালতের সময় কমানো হলেও রাজধানীর সড়কে সয়লাব প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সারাদেশে এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে!।

বৈশ্বিক সংকটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৭টার পর সারাদেশে দোকান, বিপণিবিতান, মার্কেট ও কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিসে এসি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, সভা ভার্চুয়ালি করা, অফিস সময় কমানোর পরিকল্পনা, এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং, আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই কারো।

দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। যার বেশির ভাগ লাইনই নেয়া হয়েছে অবৈধ উপায়ে। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

প্রতিটি অটোরিকশা দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ করে গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট। সেই হিসেবে প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এই খাতে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন যে হাজার হাজার টন আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস পুড়ছে তার বড় অংশই অপচয় হচ্ছে অবৈধ চার্জিং সিন্ডিকেটের কারণে।

প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এসব অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসি’রই ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ডিপিডিসি’র মোট চাহিদার প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তবে মন্ত্রাণলয়ের এই বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের ৮টিতে ব্যাটারিচালিত বৈধ চার্জিং স্টেশন থাকলেও প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।

এর মধ্যে মিরপুর ডিভিশনের ৭ থানায় আছে ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ। ওয়ারী ডিভিশনে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান ডিভিশনে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৩ চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। উত্তরা ডিভিশনে ১ হাজার ৩০৫ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ। মতিঝিল ডিভিশনে ১ হাজার ৩৯০ চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। লালবাগ ডিভিশনে ১৯৯ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭৭টি গ্যারেজ। তেজগাঁও ডিভিশনে মোট ২৩৪ এবং রমনা ডিভিশনে অন্তত ২৬টি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা রাখা হয়। আর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সুবিধা। কোনো গ্যারেজ মালিক প্রতিদিন জমার টাকার সঙ্গেই চার্জের টাকা নেন, কেউ আবার গ্যারেজ না থাকায় ব্যক্তিগত অটোরিকশাগুলো টাকার বিনিময়ে অন্যের গ্যারেজে চার্জ করাচ্ছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগসহ বেশ কয়েকটি রিকশার গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলছে বৈদ্যুতিক চার্জের ব্যবস্থা। এক মিটারেই চার্জ দেয়া হচ্ছে কয়েকটি গ্যারেজের রিকশা। কোথাও আবার সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নেয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ। অন্যদিকে, এসব গ্যারেজ টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় নেতাদের মাসে বড় একটা চাঁদা দেয়ার কথাও স্বীকার করছেন মালিকরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংকটে ক্রমেই চাপ বাড়বে বিদ্যুতের ওপর। তবে অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এর চার্জিং পদ্ধতি একটি শৃঙ্খলায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ডেসকো-ডিপিডিসি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধতা আনতে পারত। মিটার দিতে পারত। তাদের কাছ থেকে যদি চার্জটা (মূল্য) নেয়া যায়, তাহলে এই টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যেত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা যতটুকু জানি ঢাকা শহরে দৈনিক ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ ওয়াট বিদ্যুৎ যদি অটোরিকশা খেয়ে ফেলে তাহলে সামনের গরমে লোডশেডিং ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না। একইসঙ্গে যেসব হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে এগুলো চার্জ করা হচ্ছে তা আমাদের জাতীয় গ্রিডের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকারের নজর দেয়া উচিত।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এ ক্যান্সার এখন সর্বশেষ স্টেজে রয়েছে। যেকোনো সময় বিপদ ঘটাতে পারে। এটা নিয়ে সরকারকে দ্রুত কাজ করতে হবে। না হলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এ রিকশা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি হওয়া কারখানা ও চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কারখানা এবং চার্জিং স্টেশনগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বন্ধ করে দেয়াসহ সরকারকে কঠোর হতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, একটি বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বড় ভুমিকা অটোরিকশার চার্জিং ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০১:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশের পাম্পগুলোতে এখন তেলের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। তেলের এই সংকটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিস-আদালতের সময় কমানো হলেও রাজধানীর সড়কে সয়লাব প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সারাদেশে এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে!।

বৈশ্বিক সংকটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৭টার পর সারাদেশে দোকান, বিপণিবিতান, মার্কেট ও কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিসে এসি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, সভা ভার্চুয়ালি করা, অফিস সময় কমানোর পরিকল্পনা, এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং, আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নেই কারো।

দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। যার বেশির ভাগ লাইনই নেয়া হয়েছে অবৈধ উপায়ে। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।

প্রতিটি অটোরিকশা দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ করে গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট। সেই হিসেবে প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এই খাতে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন যে হাজার হাজার টন আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস পুড়ছে তার বড় অংশই অপচয় হচ্ছে অবৈধ চার্জিং সিন্ডিকেটের কারণে।

প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এসব অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসি’রই ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ডিপিডিসি’র মোট চাহিদার প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তবে মন্ত্রাণলয়ের এই বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের ৮টিতে ব্যাটারিচালিত বৈধ চার্জিং স্টেশন থাকলেও প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।

এর মধ্যে মিরপুর ডিভিশনের ৭ থানায় আছে ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ। ওয়ারী ডিভিশনে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান ডিভিশনে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৩ চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। উত্তরা ডিভিশনে ১ হাজার ৩০৫ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ। মতিঝিল ডিভিশনে ১ হাজার ৩৯০ চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। লালবাগ ডিভিশনে ১৯৯ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭৭টি গ্যারেজ। তেজগাঁও ডিভিশনে মোট ২৩৪ এবং রমনা ডিভিশনে অন্তত ২৬টি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা রাখা হয়। আর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সুবিধা। কোনো গ্যারেজ মালিক প্রতিদিন জমার টাকার সঙ্গেই চার্জের টাকা নেন, কেউ আবার গ্যারেজ না থাকায় ব্যক্তিগত অটোরিকশাগুলো টাকার বিনিময়ে অন্যের গ্যারেজে চার্জ করাচ্ছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগসহ বেশ কয়েকটি রিকশার গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলছে বৈদ্যুতিক চার্জের ব্যবস্থা। এক মিটারেই চার্জ দেয়া হচ্ছে কয়েকটি গ্যারেজের রিকশা। কোথাও আবার সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নেয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ। অন্যদিকে, এসব গ্যারেজ টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় নেতাদের মাসে বড় একটা চাঁদা দেয়ার কথাও স্বীকার করছেন মালিকরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংকটে ক্রমেই চাপ বাড়বে বিদ্যুতের ওপর। তবে অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এর চার্জিং পদ্ধতি একটি শৃঙ্খলায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ডেসকো-ডিপিডিসি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধতা আনতে পারত। মিটার দিতে পারত। তাদের কাছ থেকে যদি চার্জটা (মূল্য) নেয়া যায়, তাহলে এই টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যেত।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা যতটুকু জানি ঢাকা শহরে দৈনিক ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ ওয়াট বিদ্যুৎ যদি অটোরিকশা খেয়ে ফেলে তাহলে সামনের গরমে লোডশেডিং ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না। একইসঙ্গে যেসব হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে এগুলো চার্জ করা হচ্ছে তা আমাদের জাতীয় গ্রিডের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকারের নজর দেয়া উচিত।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এ ক্যান্সার এখন সর্বশেষ স্টেজে রয়েছে। যেকোনো সময় বিপদ ঘটাতে পারে। এটা নিয়ে সরকারকে দ্রুত কাজ করতে হবে। না হলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এ রিকশা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি হওয়া কারখানা ও চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কারখানা এবং চার্জিং স্টেশনগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বন্ধ করে দেয়াসহ সরকারকে কঠোর হতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, একটি বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।