ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটের ময়দানে জেন-জিদের প্রভাব; সংস্কার ও কর্মসংস্থানই প্রধান চাওয়া

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে জেন-জিদের ভোট। মোট ভোটারের চার ভাগের এক অংশ তরুণ প্রজন্ম, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। নির্বাচিত সরকারের প্রতি জেন-জিদের অন্যতম চাওয়া সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এদিকে বিশ্লেষকরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে ভোটারদের অনেকটা প্রভাবিত করতে পারে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৬ সালের নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণরা বলছেন, দেড় দশক পর বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন হবে এবার।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরুণ জনসংখ্যার দেশের একটি বাংলাদেশ। তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ৩০ বছরের কম। দেশটির মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন-জিদের ভোটই এবারের নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। কারণ তাদের হাতেই আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতন হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

এদিকে, নির্বাচিত সরকারের প্রতি তরুণদের দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাকরির ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বিষয়। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলগুলোর প্রতি তারা আশাবাদী। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অবস্থা থেকে একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যাবে বাংলাদেশ। এমনটাই প্রত্যাশা জেন-জিদের।

তরুণ ভোটারদের একজন বলেন, ‘দেশের জনগণকে তাদের রাজনৈতিক জোট বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। তাদেরকে কেবল দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আন্দোলন করলেও আমার মনে হয় এ পর্যায়ে এসে কিছু পার্টিকুলার মানুষদের জন্য ভালো হয়েছে। ওভারওল সর্বসাধারণের চাওয়া পাওয়া পূরণ হচ্ছে না।’

তরুণদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘প্রতি বছর স্নাতক শেষ করে বের হচ্ছে বহু শিক্ষার্থী। তবে সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রত্যাশা দেশের বেকার সমস্যা দূর করবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট বাংলাদেশের পোশাক খাতসহ রপ্তানি শিল্প এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় দুর্নীতি। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক প্রভাবশালী চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে এবারে ভোট।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সিনিয়র কনসালটেন্ট থমাস কিয়ান বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর সব তা মেনে নেবে বা নির্বাচিত সরকারের পথ মসৃণ হবে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তবে এ দিক থেকে অনেকটা আশাবাদী বলা যায়। কারণ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ভঙ্গুর ঐকমত্যও ১৮ মাস ধরে টিকে আছে। এ নির্বাচন একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শাহান বলেন, ‘সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ। কোটা সংস্কার থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। তবে এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধান হয়নি। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে। জুলাই সনদ, প্রশাসন এবং একইসঙ্গে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা পরবর্তী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় তাদের ভোটাররা ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোটের ময়দানে জেন-জিদের প্রভাব; সংস্কার ও কর্মসংস্থানই প্রধান চাওয়া

আপডেট সময় : ০১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে জেন-জিদের ভোট। মোট ভোটারের চার ভাগের এক অংশ তরুণ প্রজন্ম, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। নির্বাচিত সরকারের প্রতি জেন-জিদের অন্যতম চাওয়া সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এদিকে বিশ্লেষকরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে ভোটারদের অনেকটা প্রভাবিত করতে পারে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৬ সালের নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণরা বলছেন, দেড় দশক পর বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন হবে এবার।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরুণ জনসংখ্যার দেশের একটি বাংলাদেশ। তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ৩০ বছরের কম। দেশটির মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর। প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন-জিদের ভোটই এবারের নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। কারণ তাদের হাতেই আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতন হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের চাহিদা পূরণে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

এদিকে, নির্বাচিত সরকারের প্রতি তরুণদের দাবির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাকরির ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বিষয়। নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলগুলোর প্রতি তারা আশাবাদী। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অবস্থা থেকে একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যাবে বাংলাদেশ। এমনটাই প্রত্যাশা জেন-জিদের।

তরুণ ভোটারদের একজন বলেন, ‘দেশের জনগণকে তাদের রাজনৈতিক জোট বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। তাদেরকে কেবল দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আন্দোলন করলেও আমার মনে হয় এ পর্যায়ে এসে কিছু পার্টিকুলার মানুষদের জন্য ভালো হয়েছে। ওভারওল সর্বসাধারণের চাওয়া পাওয়া পূরণ হচ্ছে না।’

তরুণদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘প্রতি বছর স্নাতক শেষ করে বের হচ্ছে বহু শিক্ষার্থী। তবে সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রত্যাশা দেশের বেকার সমস্যা দূর করবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট বাংলাদেশের পোশাক খাতসহ রপ্তানি শিল্প এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় দুর্নীতি। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক প্রভাবশালী চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে এবারে ভোট।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সিনিয়র কনসালটেন্ট থমাস কিয়ান বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর সব তা মেনে নেবে বা নির্বাচিত সরকারের পথ মসৃণ হবে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তবে এ দিক থেকে অনেকটা আশাবাদী বলা যায়। কারণ ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ভঙ্গুর ঐকমত্যও ১৮ মাস ধরে টিকে আছে। এ নির্বাচন একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শাহান বলেন, ‘সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ। কোটা সংস্কার থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। তবে এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধান হয়নি। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে। জুলাই সনদ, প্রশাসন এবং একইসঙ্গে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা পরবর্তী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ থাকলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় তাদের ভোটাররা ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।