ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন দু’দিন বন্ধ থাকার পর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটটে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ৮টা থেকে প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর জন্য দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে আসবে বলে আশা করা যায়।

এর আগে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ইউনিটটির বয়লার পাইপ ফেটে যায়। মেরামত করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তার আগেই এটি সচল করা সম্ভব হলো।

উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কারকাজের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে এই ইউনিটটি থেকে প্রায় ৬০-৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।

এরপর থেকে মূলত এক ও তিন নম্বর ইউনিট দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তবে সচল থাকা এই ইউনিট দুটিও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার বন্ধ হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর মাসেও বয়লারের লিকেজ, টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার কারণে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই কেন্দ্রে বারবার এমন বিপর্যয়ের ফলে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন দু’দিন বন্ধ থাকার পর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটটে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ৮টা থেকে প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর জন্য দৈনিক ৭০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে।

প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটা কমবে আসবে বলে আশা করা যায়।

এর আগে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ইউনিটটির বয়লার পাইপ ফেটে যায়। মেরামত করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তার আগেই এটি সচল করা সম্ভব হলো।

উল্লেখ্য, ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কারকাজের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে এই ইউনিটটি থেকে প্রায় ৬০-৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।

এরপর থেকে মূলত এক ও তিন নম্বর ইউনিট দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তবে সচল থাকা এই ইউনিট দুটিও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার বন্ধ হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর মাসেও বয়লারের লিকেজ, টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার কারণে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই কেন্দ্রে বারবার এমন বিপর্যয়ের ফলে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।