ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলতে জোট বাঁধছে ৪০ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে ৪০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ নেই।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য একটি কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। ইরানের হামলা ও হুমকির মুখে বর্তমানে এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাহরাইন, পানামা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে নৌপথ অবরোধ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দেশের কাজ নয়। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন এবং আবারও ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জোটভুক্ত দেশগুলো বলপ্রয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ সামরিক সমাধানের বিষয়টিকে অবাস্তব উল্লেখ করে বলেন, এটি জাহাজগুলোকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শিপিং ডাটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজে ২৩টি সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে যে তারা কেবল ‘শত্রু দেশ’ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য পথ বন্ধ রেখেছে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বাণিজ্যিক কোম্পানি বর্তমানে এই পথ ব্যবহার করতে সাহস পাচ্ছে না। সূত্র: আলজাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই হরমুজ প্রণালি খুলতে জোট বাঁধছে ৪০ দেশ

আপডেট সময় : ১২:২০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে ৪০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ নেই।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য একটি কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। ইরানের হামলা ও হুমকির মুখে বর্তমানে এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাহরাইন, পানামা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে নৌপথ অবরোধ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দেশের কাজ নয়। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন এবং আবারও ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জোটভুক্ত দেশগুলো বলপ্রয়োগের পরিবর্তে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ সামরিক সমাধানের বিষয়টিকে অবাস্তব উল্লেখ করে বলেন, এটি জাহাজগুলোকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে ফেলবে। তিনি সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শিপিং ডাটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজে ২৩টি সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে যে তারা কেবল ‘শত্রু দেশ’ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য পথ বন্ধ রেখেছে, তবে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বাণিজ্যিক কোম্পানি বর্তমানে এই পথ ব্যবহার করতে সাহস পাচ্ছে না। সূত্র: আলজাজিরা